গেলো কিছু দিন ধরে চলা রাজনৈতিক উত্তেজনার আপাত অবসান হলো। ১১ দলীয় জোট থেকে বের হয়ে গেলো ইসলামী আন্দোলন। ইসলামপন্থীদের এক বাক্সের যে নীতি ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম ঘোষণা করেছিলেন, এর সমাপ্তি টানলো তার দলই।
শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলনের জন্য অপেক্ষা করেছিল জামায়াত। ৪৭টি আসন দলটির জন্য খালিও রাখা হয়েছিল। কিন্তু কিছুতেই কাজ হয়নি। ইসলামপন্থীদের বড় জোট গড়ার চেষ্টা আরও একবার ব্যর্থ হলো।
বার্তা কক্ষ থেকে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে বোঝার চেষ্টা করেছি, ইসলামী আন্দোলনের এই সিদ্ধান্ত জামায়াতের জন্য কতটা ক্ষতিকর কিংবা লাভজনক হতে পারে। এটা বলে রাখা দরকার যে, রাজনীতিতে এমন সিদ্ধান্তের রেজাল্ট দেখতে বহুদিন অপেক্ষা করতে হয়। তবুও আমরা কয়েকটি বিষয়ের উল্লেখ করতে পারি।
এক. এটা জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্বের একধরনের ব্যর্থতা। তারা সমঝোতা করতে সক্ষম হননি।
দুই. জামায়াতের নির্বাচনী জয়ে কিংবা হারে এ সিদ্ধান্তের প্রভাব থাকবে। কারণ বেশ কিছু আসনে ইসলামী আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য ভোট রয়েছে। তবে ইসলামী আন্দোলন এককভাবে নির্বাচন করলে কতটি আসনে জয়ী হয়, সেটাও হবে দেখার।
তিন. ১৭৯ আসনে প্রার্থী দেওয়ার খবরে জামায়াতের তৃণমূল পর্যায়ে অস্বস্তি তৈরি হয়। অনেক কর্মী-সমর্থক এর সমালোচনা করেন। এখন জামায়াত আরও বেশি আসনে প্রার্থী দিতে পারবে।
চার. ইসলামী আন্দোলন বের হয়ে গেলেও এনসিপি, এবি পার্টির মতো দলগুলো জোটে রয়েছে। এটা জামায়াত জোটকে অপেক্ষাকৃত মডারেট ইসলামী শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করবে।
পাঁচ. ইসলামী আন্দোলনকে জোটে রাখার চেষ্টায় জামায়াত যে উদারতা দেখিয়েছে, তাও স্পষ্ট।
ছয়. ইসলামী আন্দোলন না থাকলেও জোটে কয়েকটি ইসলামী দল রয়েছে। এটা ইসলামপন্থীদের ভোট টানতে সহায়ক হবে।
শেষ কথা: রাজনীতিতে শেষ কথা বলা প্রায় অসম্ভব। আপাতত ইসলামী আন্দোলনের জোট ত্যাগ জামায়াত বা ইসলামী আন্দোলন—কারও জন্যই খুব বেশি লাভজনক মনে হচ্ছে না। এটা অনেকটা বিএনপির পক্ষে গেছে। যদিও জামায়াতকে তার রাজনীতি স্পষ্ট করতে এটি সহায়ক হবে।