‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’—এটাই গণতান্ত্রিক রীতি। কিন্তু রাজবাড়ী-১ আসনের গোয়ালন্দ উপজেলার গ্রামের নারী ভোটাররা স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন না। নারী-পুরুষের সম-অধিকারের কথা বলা হলেও পরিবার প্রধানের পছন্দের প্রার্থীকেই তাদের ভোট দিতে হয়।
এদিকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোটের পাল্লা ভারী করতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা ঘনঘন বৈঠক করছেন।
উপজেলা শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামে ভোটারদের মন জয় করতে নানা পরিকল্পনা করছেন তারা।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাচন অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর ও গোয়ালন্দ উপজেলা নিয়ে রাজবাড়ী-১ সংসদীয় আসন। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৩০ হাজার ২১৫টি। এর মধ্যে নারী ভোটার দুই লাখ ১৪ হাজার ৫৮টি।
গোয়ালন্দে পুরুষ ভোটারের চেয়ে নারী ভোটারের সংখ্যা এক হাজার ৪৬১ জন কম।
উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাওয়ালজানি গ্রামের ভোটার গৃহবধূ জহুরা বেগম বলেন, ‘আমি রাজনীতি-ফাজনীতির কিছুই বুজি (বুঝি) না। বুজার আমার দরকারও নাই। খালি ইলাকশন (ইলেকশন) আইলেই আমাগো মতোন মাইনষের কদোর বাড়ে।
তয়, ভোটে যারাই দাঁড়াক, আমার সুয়ামী (স্বামী) যে মার্কায় ভোট দিতে কইবো, সেই মার্কাতেই আমি ভোট দিমু।’
উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের শাহাদত মেম্বারপাড়া গ্রামের দিনমজুর মুজা সরদারের স্ত্রী ৬০ বছরের বৃদ্ধা নূরজাহান বেগম। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে তিনি তার বড় মেয়ের বাড়িতে থাকেন। আসন্ন নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার সুয়ামী যহোন (যখন) ছিল, তহোন হে যারে ভোট দিতে কইছে, আমি তারেই ভোট দিছি। এহোন (এখন) ভোটের সুমায় (সময়) আমার বড় জামাই (মেয়ের বর) পছন্দ কইরা যারে দিতে কইব, আমি তারেই ভোট দিমু
’
সরকারি গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) কামরুন্নাহার সিদ্দীকা জলি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের সমাজব্যবস্থা ও পারিবারিক কারণে অনেক ক্ষেত্রে নারীরা এখনো পিছিয়ে রয়েছে। নারী-পুরুষের সম-অধিকারের কথা বলা হলেও বাস্তবে তা নেই। তাই নির্বাচনে স্বাধীনভাবে নিজ পছন্দে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন না এলাকার অধিকাংশ মহিলা ভোটার। অযোগ্য হলেও পরিবার প্রধানের পছন্দের প্রার্থীকেই তারা ভোট দিতে বাধ্য হন।’ তবে, প্রতিটি পরিবারে নারী-পুরুষের সম-অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলে এ সমস্যা থাকবে না বলে তিনি জানান।
নির্বাচন কমশিন কর্তৃক ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা।