Image description

হতাহতদের হদিশ না মেলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা হত্যা অথবা হত্যাচেষ্টার অজস্র মামলার একটি খারিজ করার সুপারিশ করল পুলিশ।

শেখ হাসিনা সরকারের ক্ষমতাচ্যুতির পরে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার ধানমন্ডি থানায় হত্যাচেষ্টার মামলাটি করা হয়েছিল। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, জুলাই গণ আন্দোলনের সময় ৪ অগস্ট কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ধানমন্ডি ২৭-এর মীনা বাজারের সামনে জখম হন জনৈক দোকান মালিক সাহেদ আলি। এই ঘটনায় ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের কয়েক জন শিক্ষার্থী-সহ মোট ৯ জন আহত হয়েছেন বলা হয়। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-সহ ১১৩ জনকে আসামি করা হয় এই মামলায়। মামলার তদন্ত নেমে থানা পুলিশ চার জনকে গ্রেপ্তার করে।

পরে এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে। তদন্তভার পাওয়ার পর পিবিআই পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) শাহজাহান ভূঞাঁ আহতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করলেও কারও সন্ধান পাননি। পরে, হত্যাচেষ্টা মামলায় 'তথ্যগত ভুল' থাকায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-সহ ১১৫ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে গত বছরের ৫ নভেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পিবিআই। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি হবে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মামলায় ১১৩ জন-সহ মোট ১১৫ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

এই মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়া দুজন বর্তমানে জামিনে আছেন। অন্য দু'জন এখনও জেল হেফজতে রয়েছেন।

এ মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও রয়েছেন— হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়, প্রাক্তন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, মহম্মদ এ আরাফাত, জুনাইদ আহমেদ পলক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মাহবুব উল আলম হানিফ, শেখ ফজলে নুর তাপস, অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ ও ছাত্র লিগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন।

এ দিকে, সোমবার ঢাকায় জুলাই–অগস্টে কারফিউ জারি করে গণহত্যায় উসকানি এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্য এক মামলায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও প্রাক্তন আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-১। প্রসিকিউশন তাঁদের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ এনেছেন, যার মধ্যে রয়েছে- কারফিউ জারির মাধ্যমে মারণাস্ত্র ব্যবহারের উসকানি, ষড়যন্ত্র এবং মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামি লিগের সশস্ত্র হামলায় সাধারণ জনগণের প্রাণহানি। অভিযোগে বলা হয়েছে, চব্বিশের জুলাই আন্দোলন দমন করতে নীতিগত সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন সালমান ও আনিসুল।