Ali Ahmad Mabrur (আলী আহমাদ মাবরুর)
বাংলাদেশকে ঘিরে ভারতীয় মিডিয়ায় নোংরা অপপ্রচার অব্যহত রয়েছে। চলতি মাসের শুরু থেকে এই অপপ্রচার যেন নতুন মাত্রা পেয়েছে। ভারতীয় কিছু মিডিয়া দাবি করছে, বাংলাদেশে হিন্দুদের কাছ থেকে নাকি ইউনুস প্রশাসন জিজিয়া কর আদায় করছে। একটি ভিডিওতে দেখলাম বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক ভারতীয় রাষ্ট্রদূত ভিনা সিক্রিও এই প্রোপাগান্ডায় অংশ নিচ্ছেন। অথচ এর মতো জঘন্য মিথ্যাচার দ্বিতীয়টি নেই।
নরসিংদীর একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ভুইফোঁড় অনেকগুলো মিডিয়াও এই কাজে অংশ নিচ্ছে। যে কেউ ইন্টারনেটে গিয়ে সার্চ করলে এ সংক্রান্ত তথ্য পেয়ে যাবেন। এই অপপ্রচারে সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরির মতো পরিচিত এজেন্টরাও অংশ নিচ্ছেন। তার এক্স একাউন্টে তিনি দাবি করেছেন, মুসলিম ব্রাদারহুডের একটি শাখা হিসেবে বাংলাদেশে কর্মরত জামায়াতে ইসলামী গত বছরের আগষ্ট থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হিন্দুদের কাছ থেকে জিজিয়া কর সংগ্রহ করছেন।
আর জামায়াতের জিজিয়া কর আদায়ের এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তী সরকার সমর্থন দিচ্ছেন বলেও তিনি দাবি করেছেন। এমনকী মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টও এই কার্যক্রমকে সমর্থন দিচ্ছে। তার মতে, বাংলাদেশকে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রক্সি ওয়ারের একটি ক্ষেত্র বানানোর জন্যই পরিকল্পিতভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে।
এক্ষেত্রে আমার কাছে দুটো চ্যালেঞ্জ বড়ো হয়ে দেখা দিচ্ছে। একটি হলো, জনগণের বড়ো অংশ এগুলো নিয়ে সচেতন নয়; অথবা তারা বিষয়টিকে খুব বেশি একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। দ্বিতীয়ত, হয়তো সে কারণেই যেভাবে শক্তভাবে এগুলোর প্রতিবাদ বা নিন্দা করা উচিত তা করা হচ্ছে না। বিভিন্ন টিভি ইন্টারভিউতে স্বতন্ত্রভাবে বিভিন্ন ব্যক্তি যার যার মতো করে জবাব দিচ্ছেন। কিন্তু সরকার বা জামায়াতের কোনো প্রতিবাদ এখনো চোখে পড়েনি।
আর আরেকটি চ্যালেঞ্জ সামনে ধরা দেবে। তাহলো, এই অপপ্রচারের পরিণতি নিয়ে আমরা সচেতন নই। চারদলীয় জোট সরকার- যার প্রধান শরীক ছিল বিএনপি ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার দু মাসের মধ্যে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়। এর আওতায় কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে অতিরঞ্জন করা হয়। কিন্তু দিন শেষে জোট সরকার এর দায় থেকে বাঁচতে পারেনি। প্রোপাগান্ডাকে তাই হালকা করে নেয়ার সুযোগ নেই।
আরেকটি হলো তাত্ত্বিক আলোচনা। জিজিয়া কর কি জিনিস? কখন এটি আদায় করা যায়? জামায়াত বা কোনো একটি রাজনৈতিক দল আদৌ এটি আদায় করতে পারে কিনা? কিংবা বর্তমান বিশ্বে জিজিয়া করের কনসেপ্টটা ভ্যালিড কিনা? এরকম প্রশ্নগুলোর কোনো উত্তর ইসলামপন্থীরা দিতে পারেনি, পারছে না। ফলে, এই প্রোপাগান্ডা যদি আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বা ঘরোয়াভাবে কেউ বিশ্বাস করে ফেলে; তাহলে উপরোক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর না জানার কারণে তারা পুরো বিষয়টি নিয়ে মিসকনসেপশনে পড়ে যেতে পারে; যা সার্বিকভাবে সামাজিক সংহতি ও জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে। আর এই অপপ্রচার আগামী নির্বাচন বা নির্বাচনকেন্দ্রিক হস্তক্ষেপের পথ সুগম করবে বলেই আমার ধারনা।