সাতক্ষীরার শ্যামনগরে শেখ আব্দুর রহমান(৫০) নামের এক বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে জখম করেছে দুবৃর্ত্তরা। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের জয়াখালী এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। এসময় দুর্বৃর্ত্তদের হামলায় আব্দুর রহমানের গাড়ী চালক গোলাম মোস্তফাসহ সহযোগী ইস্রাফিল হোসেন আহত হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় স্বজনরা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে।
ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আবুল হোসেন মোল্যা ও উপজেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিকলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন হামলায় নেতৃত্ব দেয় বলে অভিযোগ। এঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামীয় সাত/আটজনকে আসামী করে আহতদের পক্ষ থেকে শ্যামনগর থানায় এজাহার হয়েছে।
গুরুতর আহত আব্দুর রহমানের ছেলে মামুন হোসেনের ভাষ্য তার পিতা চিংড়ি ঘেরের বাসা নির্মানের কাজ তদারকি করছিলেন। আকস্মিকভাবে আবুল হোসেন, আলমগীর, হাফিজুর ও বাবলুসহ ১৭/১৮ জন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে উক্ত চিংড়ি ঘেরে হামলা চালায়। এসময় প্রানভয়ে তার পিতা দৌড়ে বাড়ির দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ী কোপানো হয়। তাকে রক্ষা করতে যেয়ে গাড়িচালক মোস্তফাসহ শ্রমিক ইস্রাফিল হামলার শিকার হয়।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্মরত ডাঃ শাকির হোসেন জানান আহত অবস্থায় তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মাথা, হাত ও পেটসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মারাত্বক ক্ষত হওয়া আব্দুর রহমানের অবস্থা গুরুতর।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বার বার চেষ্টা করেও যুবলীগ সভাপতি আবুল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে উপজেলা সৈনিকলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আলমগীর মুটোফোনে জানান তাদের জমিতে বাসা বাঁধার চেষ্টা করায় বাবলু মোল্যা, মিজান মোড়ল ও রাকিবরা বাধা দেয়ায় সামান্য ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ খালেদুর রহমান জানান ভুক্তোভোগীর লিখিত এজাহার পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে পুলিশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেয়ে রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষন করেছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।