Image description
সরকারিভাবে বড় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত: পরিবহণ খাত ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে । ১৩০০ টাকার সিলিন্ডার ২০০০ টাকায়ও মিলছে না। দ্বিগুণ দামেও মিলছে না সিলিন্ডার। আবার এলপিজি সংকটে রিফিল হচ্ছে না তা। রাজধানীর দোলাইরপাড়ে শনিবার খালি গ্যাস সিলিন্ডার পরিষ্কার করে সাজিয়ে রাখছেন দোকানি ।

সারা দেশে এলপিজি সংকট এখনো মারাত্মক। নানা উদ্যোগের পরও কিছুতে কাটছে না এ সংকট। এখনো ১৩০০ টাকার সিলিন্ডার ২০০০ টাকায় মিলছে না। অনেকে গ্যাসের অভাবে ঠিকমতো রান্না করতে পারছেন না। তবে এ মাসের শেষের দিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অপারেটররা। বেসরকারি খাতে এলপিজির একক নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে মাসে এক লাখ টনের বেশি একটি এলপিজি রিফিল স্টেশনের ক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। শিগগির এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেছেন, এবারের সংকট সরকারের জন্য শিক্ষণীয়। এলপিজির ৯৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি খাতে। তাই তারা চাইলেই এর বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। সরকার এ সিন্ডিকেট ভাঙতে চায়। তাই সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে অথবা এককভাবে সরকার এলপিজি প্ল্যান্ট করবে।

দেশে প্রতি মাসে এলপিজির চাহিদা ১ লাখ ৪০ হাজার টনের বেশি। এবার শীত পড়েছে বেশ। এছাড়া তিতাসের সিস্টেমেও গ্যাস ছিল না। তিতাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গণভবনের সামনে একটি ভাল্ব মেরামতের কারণে শুক্র ও শনিবার এক বেলা গ্যাস ছিল না। পরে অবশ্য সেটি মেরামত করা হয়। এর বাইরে তিতাস সিস্টেমে আগের চেয়ে দৈনিক ১৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে করে সমস্যা বেড়েছে। অন্যদিকে এলপিজিরও মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। কোনোভাবেই পাওয়া যাচ্ছে না। একজন ভোক্তা জানালেন, আগে এলপিজির সিলিন্ডার প্রতি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা বেশি দেওয়া হলেও এখন বেশি দামেও পাওয়া যাচ্ছে না। এলপিজির অপারেটররা জানিয়েছেন, সরকারের অনুমতি পাওয়ার পর অনেক ব্যবসায়ী এলপিজির আমদানির এলসি খুলেছেন। তারা আমদানি শুল্ক কমানোরও দাবি করেছেন। একজন অপারেটর জানান, আন্তর্জাতিক বাজারের এলপিজির বেশ চাহিদা এখন। কারণ ইউরোপে চাহিদা বেশ। ভিন্ন বাজার থেকে বাড়তি জাহাজ ভাড়া দিয়ে এলপিজি আনতে হচ্ছে। মেঘনা এলপিজির একজন নীতিনির্ধারক জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে তাদের ১০ হাজার টনের একটি জাহাজ আসবে। এরপরের সপ্তাহে আরও একটি আসবে। তবে সবাই রমজান নিয়ে কিছুটা চিন্তিত। কারণ রমজানে এলপিজির চাহিদা অনেক বেড়ে যায়।

সরকারি কর্মকর্তারা জানান, এলপিজির চাহিদা নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে জ্বালানি বিভাগের সচিব সাইফুল ইসলামের সঙ্গে বিপিসির কর্মকর্তারা দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। বিপিসির একটি এলপিজি কোম্পানি আছে। কিন্তু তাতে মাসে তেমন সিলিন্ডার রিফিল হয় না। এখন সেটির ক্ষমতা বাড়াতে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এলপি গ্যাস সংকটে পরিবহণ খাত ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে : দেশে চলমান এলপি গ্যাস সংকটে পরিবহণ খাত ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. সিরাজুল মাওলা। আশঙ্কা প্রকাশ করে খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলপিজি সংকট দীর্ঘায়িত হলে যাত্রীসেবা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘এলপিজি সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পরিবহণ খাতে’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি সাঈদা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক মো. হাসিন পারভেজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. ইকবাল হোসাইন, যুগ্ম অর্থ সম্পাদক মো. মোকবুল হোসেন, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হুমায়ন কবির ভূঁইয়া, মো. মশিউর রহমান প্রমুখ।

এলপি গ্যাসের নামে জনগণের ওপর অর্থনৈতিক সন্ত্রাস চলতে দেওয়া হবে না-ডা. ইরান : সরকার নির্ধারিত ১২ কেজি এলপি গ্যাসের মূল্য ১৩০৬ টাকা হলেও তা খোলা বাজারে ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকায় বিক্রি হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। বাসাবাড়িতে তীব্র গ্যাস সংকটে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। এভাবে এলপি গ্যাসের নামে জনগণের ওপর অর্থনৈতিক সন্ত্রাস চলতে দেওয়া হবে না। শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত মানববন্ধনে এসব কথা বলেন বক্তারা। দলের ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক এসএম ইউসুফ আলীর সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ১৩০৬ টাকার এলপি গ্যাস ২৫০০ টাকায় বিক্রি হওয়া মানে জনগণের ওপর সরাসরি অর্থনৈতিক সন্ত্রাস চালানো। এটি শুধু মূল্যবৃদ্ধি নয়, এটি একটি সংগঠিত লুটপাট। গ্যাস সংকটের নামে বাসাবাড়িতে সরবরাহ কমিয়ে মানুষকে জোরপূর্বক এলপি গ্যাস কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। এ প্রতারণা আর সহ্য করা হবে না। মানববন্ধনে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জোহরা খাতুন জুঁই, পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম, মহিলা সম্পাদক নাসিমা নাজনীন সরকার, দপ্তর সম্পাদক মো. মিরাজ খান, ঢাকা-১ আসনের প্রার্থী শেখ মো. আলী, ছাত্র মিশনের সভাপতি সৈয়দ মো. মিলন, ঢাকা মহানগর সদস্য মো. এনামুল হক।

বরিশালেও মিলছে না এলপিজি : বরিশাল ব্যুরো জানায়, সরবরাহ না থাকায় গত সপ্তাহে বরিশালেও এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডারপ্রতি দাম বেড়েছে কমপক্ষে ৩০০ টাকা। তবে অসাধু খুচরা ব্যবসায়ীরা আরও বেশি দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছে বলে অভিযোগ ভোক্তাদের। বর্তমানে কিছু দোকানে কয়েকটি কোম্পানির অল্পসংখ্যক গ্যাস সিলিন্ডার মিললেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। তাই বাজারে চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ করে দাম নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন ক্রেতা ও ভোক্তারা।

নগরীর নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা মো. আলআমিন বলেন, সপ্তাহখানেক আগে সাড়ে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনেছিলাম ১২শ টাকায়, যা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৫শ টাকায়। সংকট থাকায় কিছু দোকানদার তা আরও কয়েকশ টাকা বেশিতে বিক্রি করছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক অপূর্ব অধিকারী বলেন, আমাদের নিয়মিত বাজার মনিটরিং চলছে। বরিশালের ডিলারদের কাছে ঢাকা থেকেই কম সরবরাহ আসছে। সরবরাহ বাড়লে দাম স্বাভাবিক হবে, তবে তাতে একটু সময় লাগবে।

কদমতলী ও যাত্রাবাড়ীতে বাসাবাড়িতে গ্যাসের তীব্র সংকট : যাত্রাবাড়ী (ঢাকা) প্রতিনিধি জানান, রাজধানীর কদমতলী ও যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় বাসাবাড়িতে লাইনের গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। বাধ্য হয়ে রান্নার কাজে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করছেন অনেকে। সিলিন্ডার কেনার বাড়তি খরচ বহন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ। অনেকে বাড়ির ছাদে, বারান্দায় ও নিচতলায় খোলা জায়গায় মাটির চুলায় রান্না করছেন।

রান্না করতে না পেরে খাবারের চরম সমস্যা হচ্ছে বাসাবাড়িতে। শুকনো খাবার ও হোটেল থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে।

তিতাস গ্যাসের রায়েরবাগ জোনাল অফিসের ডিজিএম (মেট্রো ঢাকা বিক্রয় বিভাগ-১ ও রাজস্ব বিভাগ-১) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গ্যাস সংকটের বিষয়টি দেখেন ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ সিস্টেম অপারেশন বিভাগের ডিজিএম। মূল কথা হলো গ্যাসের সমস্যাটা বর্তমানে জাতীয় সমস্যা। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। তিতাস গ্যাসের ঢাকা মেট্রো রাজস্ব বিভাগ-১ এর উপমহাব্যবস্থাপক যুগান্তরকে বলেন, গোটা এলাকায়ই গ্যাসের সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিদেশ থেকে এলএনজি না আসায় আবাসিকে গাস সংকট দেখা দিয়েছে।