নীলফামারীর সৈয়দপুরে শোয়ার ঘর থেকে গলায় ফাঁস লাগানো এক ফল ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবার ও স্থানীয়রা বলছেন, ওই ব্যক্তির নামে গরু চুরির অপবাদ দিয়ে এলাকার মসজিদে মাইকিংয়ের পর লজ্জা ও ক্ষোভে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাখুলি গ্রামের গুয়াবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তরুণ ফল ব্যবসায়ী মো. রোকনুজ্জামান (২৭)। তিনি ওই এলাকার জহুরুল ইসলাম বাট্টুর ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, গত শুক্রবার রাতে গরু চুরির সন্দেহে এলাকার লোকজন রোকনুজ্জামান ও তার চাচাতো ভাই মুসলিমকে আটক করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বোতলাগাড়ি ইউপি সদস্য মোস্তফা উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে মুচলেকা নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। গতকাল সকালে গরুর মালিক আব্দুর রশিদ মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে রোকনুজ্জামান ও মুসলিমকে গরু চোর হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে এলাকায় গরু চুরি হলে তাদের ধরে রাখার আহ্বান জানান। এ ঘটনায় রোকনুজ্জামান মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, পরে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন।
বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মোস্তফা জানান, রাতে গরু চুরির ঘটনায় স্থানীয়রা দুজনকে আটক করে। পরে সেখানে গিয়ে বিষয়টির মীমাংসা করে দেওয়া হয়। সকালে রোকনুজ্জামানের আত্মহত্যার খবর পান। এরপর জানতে পারেন, গরুর মালিক আব্দুর রশিদ সকালে মসজিদের মাইকে চুরির অভিযোগে মাইকিং করেছেন। তবে মাইকে কী বলা হয়েছে, নিজে শোনেননি তিনি।
রোকনুজ্জামানের বোন নিতু জানান, তার ভাই একজন ফল ব্যবসায়ী। তিনি সকালে বের হয়ে রাতে বাড়ি ফেরেন। চুরির অভিযোগে তাকে আটকের ঘটনায় রাতেই মীমাংসা হয়ে গেছে। অথচ সকালে মসজিদের মাইকে তার ভাইকে চোর বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে তার শোয়ার ঘরে গিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান।
এ বিষয়ে মাইকিং করা গরুর মালিক আব্দুর রশিদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
সৈয়দপুর থানার ওসি মো. রেজাউল করিম কালবেলাকে জানান, ধারণা করা হচ্ছে, তিনি গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে হত্যা না আত্মহত্যা তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি।