Image description

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এবং পরে কক্সবাজার ও ভাসানটেকে থাকা রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোকে পুরোপুরিভাবে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গা বিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সের সভায় ওই সিদ্ধান্ত হয়। সেগুনবাগিচায় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। রাজনৈতিক উত্তরণের গুরুত্বপূর্ণ ওই মুহূর্তে অনুষ্ঠিত ওই সভায় টাস্কফোর্সের সমুদয় স্টেকহোল্ডার উপস্থিত ছিলেন। সভায় নির্বাচনকালে মিয়ানমার সীমান্ত সিল করে দেয়ার বিষয়েও নীতিগতভাবে সম্মত হন টাস্কফোর্সের সদস্যরা। সভা সূত্র জানিয়েছে, ভোটের কাজে দায়িত্ব দেয়ার জন্য রোহিঙ্গা ক্যাম্পের উপ-ক্যাম্পগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনচার্জ (প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কমান্ডিং অফিসারদের পরিবর্তন না করার বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ দু’দিন আগেই নির্বাচনকালে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো বন্ধ (সিল) রাখার ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, এমন করে রাখতে হবে যেন কেউ ঢুকতে কিংবা বের হতে না পারে। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা  শেষে তিনি মঙ্গলবার ওই আহ্বান জানিয়েছিলেন। দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে- রোহিঙ্গা বিষয়ক নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় টাস্কফোর্সের সভায় এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তবে ক্যাম্প সিল বা পুরোপুরি বন্ধ নয়, বরং জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যাতায়াতকারী রোহিঙ্গাদের ওপর কঠোর নজরদারিসহ গোটা এলাকাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সূত্র মতে, ৩ মাস অন্তর অনুষ্ঠিত টাস্কফোর্সের সভা হওয়ার কারণে নির্বাচনের এটিই সর্বশেষ সভা। এমনটা ধরেই সেখানে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে নির্বাচনকালীন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে আলোচনা হয়েছে। ২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে বহুল আকাক্সিক্ষত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার প্রস্তুতি চলছে। 

সূত্র মতে, নির্বাচনকে সামনে রেখে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ জন্য সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেইসঙ্গে ক্যাম্পে অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান বন্ধে এপিবিএন, বিজিবি ও র‍্যাবের নিয়মিত যৌথ টহল জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এক কর্মকর্তা বলেন, ৩ ঘণ্টার আলোচনায় কেবল নির্বাচন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সার্বিক নিরাপত্তা, বর্ডারে মাদক ও অন্য চোরাচালান নিয়েই কথা হয়নি। বরং সেখানে রোহিঙ্গা সংক্রান্ত প্রায় সব ইস্যু এসেছে। হয়তো কোনো ইস্যুতে একটু কম বা বেশি কথা রয়েছে।

সঙ্গত কারণেই নির্বাচনের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে ২০২৬ সালের জন্য প্রণীত ‘জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান’ বাস্তবায়নে অগ্রগতিও সমান গুরুত্বে আলোচনায় স্থান পেয়েছে। তহবিল সংকট বিশেষত দাতাদের প্রতিশ্রুত সহায়তা আদায়ের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। সভায় জানানো হয়, প্রতিদিনই নতুন নতুন রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রবেশ ঘটছে। গত বছরে লাখের ওপর রোহিঙ্গা ঢুকেছে। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যস্ততার সুযোগে যেনো অনুপ্রবেশ না বেড়ে যায় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের কার্যক্রম চলমান রাখার সিদ্ধান্ত হয়। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর বিষয়টি বর্তমান সরকারের উচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে। এটি চলমান রাখার ওপর জোর দেয়া হয়।