নয়াদিল্লি পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে (লো আর্থ অরবিট) ভৌত ডেটা সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। দেশটির মহাকাশ বিভাগ এবং ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ইসরো) কর্মকর্তাদের বরাতে গত বুধবার টাইমস অব ইন্ডিয়া এ তথ্য জানিয়েছে।
ইসরোর চেয়ারম্যান ভি. নারায়ণন গণমাধ্যমকে জানান, ‘ভবিষ্যৎমুখী প্রযুক্তি গড়ে তোলার অংশ হিসেবে আমরা মহাকাশে ডেটা প্রক্রিয়াকরণ মূল্যায়ন করছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘এই মুহূর্তে কেবল প্রাথমিক পর্যায়ের কাজই হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে অধিকাংশ উপগ্রহ মূলত তথ্য সংগ্রাহকের কাজ করে। কক্ষপথে ছবি, সংকেত ও বিভিন্ন পরিমাপ সংগ্রহ করে সেগুলো পৃথিবীর গ্রাউন্ড স্টেশনে পাঠানো হয় এবং পরে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করা হয়। তবে ভারত এই পদ্ধতি বদলাতে চায়।
যোগাযোগ উপগ্রহে ‘অনবোর্ড প্রসেসিং’ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কক্ষপথে থাকা অবস্থাতেই উপগ্রহগুলোকে নতুনভাবে কনফিগার বা পুনর্বিন্যাস করা সম্ভব হচ্ছে। এতে উপগ্রহ পরিচালনায় আরো নমনীয়তা আসে বলে জানিয়েছেন ভারতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এই উন্নয়ন এমন এক সময়ে এলো, যখন বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি কম্পানি ও মহাকাশ সংস্থাগুলো মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপনের ধারণা নিয়ে কাজ করছে। এর লক্ষ্য হলো সীমাহীন সৌরশক্তি ব্যবহার করে বাড়তে থাকা বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করা। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্সের এক মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে ডেটা সেন্টারের দ্রুত বিস্তারের কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী বিদ্যুৎ চাহিদা প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে।
এদিকে ভারত আগামী তিন বছরে বছরে মহাকাশযান উৎপাদন তিন গুণ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে। পাশাপাশি, ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক মহাকাশ শিল্পে ভারতের অংশ বর্তমান ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ শতাংশে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সূত্র : আরটি