Image description

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ বলেছেন, নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে হলে খেজুরের কাঁচা রস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কোনো অবস্থায় খেজুরের কাঁচা রস খাওয়া যাবে না। তবে আগুনে জ্বাল দিয়ে খেলে সমস্যা হবে না। 

গতকাল মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে ঢাকা পোস্টকে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. এস এম মাসুদ বলেন, নিপাহ ভাইরাস প্রধানত বাদুড় থেকে মানুষে ছড়ায়, বিশেষ করে সংক্রমিত বাদুড়ের খাওয়া ফল (যেমন- কাঁচা খেজুরের রস) বা তাদের লালা/মল দ্বারা দূষিত খাবার থেকে। মানুষ থেকে মানুষেও এটি ছড়াতে পারে, বিশেষ করে আক্রান্ত ব্যক্তির লালা, প্রস্রাব বা মলমূত্রের সংস্পর্শে এলে এবং পরবর্তীতে সংক্রমিত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ পরিচর্যার মাধ্যমেও এটি ছড়িয়ে পড়ে।

 

সিভিল সার্জন বলেন, এই রোগের উপসর্গ সংক্রমণের ৩ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে হয়ে থাকে। প্রাথমিকভাবে জ্বর, মাথাব্যথা, পেশীতে ব্যথা, বমি, গলা ব্যথা বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো উপসর্গ দেখা যায়। মাথা ঘোরা, তৃষ্ণা, বেঁহুশ হয়ে যাওয়া, অসংলগ্ন প্রলাপ এবং মস্তিষ্কের তীব্র সংক্ৰমণ জনিত স্নায়ুবিক লক্ষণ লক্ষ্য করা যেতে পারে। কিছু লোক নিউমোনিয়া, তীব্র বুকের যন্ত্রণাসহ তীব্র শ্বাসকষ্টের সম্মুখীন হতে পারেন। শ্বাসকষ্টবিহীন রোগী অপেক্ষা যে সমস্ত রোগীর শ্বাসকষ্ট উপস্থিত হয় তাদের দ্বারা বেশিমাত্রায় এই রোগ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রোগী অচেতন অবস্থায় চলে যেতে পারেন। অল্পসংখ্যক মানুষ যারা প্রাথমিকভাবে ভালো হয়ে উঠলেও পরবর্তীকালে মস্তিষ্কের সংক্রমণে ভুগতে পারেন। মৃত্যুর হার ৪০% থেকে ৭৫% পর্যন্ত হতে পারে।

ডাঃ এস এম মাসুদ বলেন, নিপাহ ভাইরাস সম্পর্কে মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রতিনিয়ত এ সংক্রান্ত লিফলেট প্রচার করা হচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ করে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। নিপাহ ভাইরাস সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়ানোর জন্য সাংবাদিকরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। তারাও তাদের ফেসবুকে পোস্ট করে বা মিডিয়াতে প্রচার করে জনসচেতনতা বাড়াতে পারেন। পাবলিকের মাঝে সচেতনতা বাড়লেই এই নিপাহ ভাইরাসটা দমন করা সম্ভব হবে। এই ভাইরাসে কেউ আক্রান্ত হলে চিকিৎসাও অনেক জটিল, সব জায়গায় চিকিৎসাও সম্ভব না। মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে আমরাও চেষ্টা করছি এবং আপনাদের (সাংবাদিক) সহযোগিতাও কামনা করছি।

 

তিনি আরও বলেন, নিপাহ ভাইরাস খুবই জটিল একটি রোগ। এটার জন্য কোনো অ্যান্টিডোট বা অ্যান্টি ভাইরাল এখন পর্যন্ত এভেইলেবেল না। লক্ষণ দেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এটা খুব জটিল ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা।