আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকারের দাবি পূরণ হলেও ভোট প্রয়োগে নানা বিড়ম্বনায় পড়েছেন আমিরাত প্রবাসীরা। নিবন্ধন জটিলতার পর ব্যালট পেতে প্রবাসীদের গুনতে হচ্ছে টাকা, যা অন্য দেশের তুলনায় ব্যতিক্রম। এছাড়া সময় স্বল্পতার কারণে ভোট প্রদানে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
ভোটারদের অভিযোগ, বিনামূল্যে ব্যালট প্রাপ্তির নির্দেশনা থাকলেও আমিরাত প্রবাসীদের দিরহাম পরিশোধ করে তা গ্রহণ করতে হচ্ছে। নিজেরা পোস্ট অফিসে উপস্থিত হয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ব্যালট নিতে ২০ দিরহাম এবং নিজের ঠিকানায় সংগ্রহ করতে ৩০ দিরহাম গুনতে হচ্ছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় হাজার টাকার বেশি। ব্যালট হাতে পেয়েও কাজ করছে না কিউআর কোড এবং নির্ধারিত অ্যাপের প্রাপ্তি বাটন।
এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের জরুরি সেবায় ফোন করে জানতে চাইলে তারা জানান, ১৪৮ দেশের মধ্যে কেবল সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পোস্ট অফিসের সঙ্গে চুক্তি করা যায়নি। ফলে কেবল এই দুই দেশের নাগরিকদের পয়সা দিয়ে ব্যালট সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
কিউআর কোডের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন অফিস জানায়, গত ২১ তারিখ প্রার্থী বরাদ্দ হওয়ার পর কিউআর কোড সক্রিয় হবে এবং অতিদ্রুত ভোট সম্পন্ন করে নিকটস্থ পোস্ট অফিসে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে ব্যালট পৌঁছাতে হবে।
প্রথমবারের মতো প্রবাসীরা ভোটাধিকারের সুযোগ পাওয়ায় ব্যাপক সাড়া পড়ে। কিন্তু ১০ লাখ আমিরাত প্রবাসীর মধ্যে মাত্র ৩৮ হাজার ৫৭৪ জন নিবন্ধনের সুযোগ পেয়েছেন।
এ বিষয়ে আরব আমিরাতে বিএনপি নেতা শাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, নিবন্ধন করতে গিয়ে ওটিপি না পাওয়ায় ৫০ শতাংশ আমিরাত প্রবাসী নিবন্ধন করতে পারেনি। আবার ব্যালট পেতে পয়সা পরিশোধের কারণে অনেক নিবন্ধিত ভোটার ভোট দানে আগ্রহ হারাচ্ছে।
নিবন্ধিত ভোটার আব্দুর রহিম বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ভোট সম্পন্ন করে দুই দিনের মধ্যে ব্যালট পোস্ট অফিসে পৌঁছানো একজন সাধারণ শ্রমিকের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। তার মতে, প্রবাসীদের ভোটাধিকার অন্য দেশের বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য স্বস্তির হলেও আমিরাত প্রবাসীদের জন্য কিছুটা বিড়ম্বনার।
আমিরাত প্রবাসীদের সমস্যার বিষয়ে বাংলাদেশের দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) মোহাম্মদ উল্লাহ খান কালবেলাকে জানান, সরকার এবং দূতাবাস আমিরাতের ডাক বিভাগের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার কারণে বিষয়টি সুরাহা করা যায়নি। তবে নিজস্ব পোস্ট বক্স নবায়ন থাকলে কোনো ফি দিতে হবে না বলে তিনি জানান। সরকার সব সময় খরচ বহন করতে বদ্ধপরিকর। তবে সময়স্বল্পতার বিষয়ে তিনি কীভাবে প্রবাসীদের জন্য আরও সহজ করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে আশ্বাস দেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২ জন প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন করেছেন। গত ১৮ নভেম্বর শুরু হয়ে নিবন্ধন প্রক্রিয়া ৫ জানুয়ারি রাত ১২টায় শেষ হয়। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, মোট নিবন্ধনকারীদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১২ লাখ ৮১ হাজার ৪৩৪ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৫২ হাজার ২৪৬ জন। প্রবাসী ভোটারদের মধ্যে সৌদি আরব থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৩৯ হাজার ১৮৬ জন নিবন্ধন করেছেন। এছাড়া মালয়েশিয়ায় ৮৪ হাজার ২৯২ জন, কাতারে ৭৬ হাজার ১৩৯ জন এবং ওমানে ৫৬ হাজার ২০৭ প্রবাসী ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন।