দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগ পুনরায় স্থাপিত হতে যাচ্ছে। আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে ঢাকা-করাচি-ঢাকা রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এর মাধ্যমে ২০১২ সালের পর প্রথমবারের মতো দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আকাশপথের দুয়ার উন্মোচিত হচ্ছে।
বিমানের উচ্চপর্যায়ের সূত্র থেকে জানা গেছে যে, এই রুটে প্রাথমিকভাবে তিন মাসের জন্য সপ্তাহে দুটি করে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এই সূচি অনুযায়ী আগামী ৩০ মার্চ পর্যন্ত ফ্লাইটগুলো নিয়মিত চলাচল করবে এবং ফ্লাইটের বিস্তারিত সময়সূচি খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করা হবে। ইতোমধ্যেই পাকিস্তান সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (পিসিএএ) এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা এবং তাদের আকাশপথ ব্যবহারের প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে যাতায়াতকারী যাত্রীরা মূলত দুবাই বা দোহাসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ট্রানজিট পয়েন্ট ব্যবহার করে আসছেন। এতে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় ব্যয় হওয়ার পাশাপাশি খরচও অনেক বেশি পড়ছে। সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ার ফলে একদিকে যেমন যাতায়াত সহজ হবে, অন্যদিকে সময় ও ব্যয় উভয়ই উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগের ফলে দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।
বিমান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ঢাকা–করাচি রুটটি বাণিজ্যিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সরাসরি বিমান যোগাযোগ অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ঢাকা-করাচি ফ্লাইট, বাংলাদেশ-পাকিস্তান বিমান যোগাযোগ, সরাসরি ফ্লাইট ২০২৬, বিমান বাংলাদেশ নিউজ, ঢাকা-করাচি সরাসরি রুট