বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ৭ম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে এ গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদনগ্রহণ শুরু হবে। শিক্ষক নিয়োগে আবেদনকারীদের জন্য প্রতিষ্ঠান পছন্দ (চয়েজ লিস্ট) দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ধাপ। সামান্য ভুল সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে চাকরি জীবনে দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তির কারণ হতে পারে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা বলছেন, আবেগ নয় বাস্তবতা ও তথ্য যাচাই করেই প্রতিষ্ঠান পছন্দ দেওয়া উচিত।
প্রতিষ্ঠান পছন্দক্রম দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমেই বিবেচনায় রাখতে হবে বাসা থেকে প্রতিষ্ঠানের দূরত্ব। আপনার বাসা থেকে প্রতিষ্ঠান কত কিলোমিটার দূরে, যাতায়াতে সময় ও খরচ বাস্তবসম্মত কি না তা না ভেবে চয়েজ দিলে পরবর্তীতে দৈনন্দিন যাতায়াত বড় চাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শ্রেণিকক্ষের অবস্থা, অফিস সুবিধা, পরিবেশ ও সামগ্রিক সুযোগ-সুবিধা শিক্ষকতার মান ও মানসিক স্বস্তির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা কম হলে ভবিষ্যতে এমপিও, পদ টিকিয়ে রাখা ও এমনকি প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নিয়েও শঙ্কা তৈরি হতে পারে।
আবেদন করার আগে অবশ্যই জানতে হবে উক্ত পদে বর্তমানে কেউ কর্মরত আছেন কি না। অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবে পদ শূন্য না থাকলেও চাহিদা দেওয়া হয়। এ বিষয়ে খোঁজ না নিয়ে আবেদন করলে তা মারাত্মক ভুল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
একই সঙ্গে যাচাই করা জরুরি, ভুল বা বিতর্কিত চাহিদা দেওয়া হয়েছে কি না। চাহিদাপত্রে বিষয়ভিত্তিক নাম, পদসংখ্যা ও এমপিও স্ট্যাটাস মিলিয়ে না দেখলে নিয়োগ জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা থাকে।
অভিজ্ঞ শিক্ষকরা বলছেন, প্রতিষ্ঠান প্রধানের ভূমিকা চাকরি জীবনের সবচেয়ে বড় নির্ধারক। প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষের ব্যবহার, মানসিকতা ও স্বচ্ছতা ভালো না হলে চাকরি জীবন অশান্ত হয়ে উঠতে পারে।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ পরিবেশ সম্পর্কেও আগেই খোঁজ নেওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় প্রভাব, কমিটির দ্বন্দ্ব কিংবা গ্রুপিং থাকলে তা ভবিষ্যতে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
পদটি শূন্য নাকি সৃষ্ট পদ এই বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শূন্য পদ তুলনামূলকভাবে নিরাপদ হলেও সৃষ্ট পদে ভবিষ্যতে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো আপনার বিষয়ে এমপিও আছে কি না। এমপিও না থাকলে বেতন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে, যা একজন শিক্ষকের জন্য বড় ঝুঁকি।
বিশেষজ্ঞরা আরও পরামর্শ দিচ্ছেন, মেধা তালিকা অনুযায়ী কৌশলগতভাবে চয়েজ লিস্ট সাজাতে হবে। আবেগের বশে নয়, বরং নিজের অবস্থান বুঝে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
তাঁরা সতর্ক করে বলেন, না জেনে উল্টো-পাল্টা চয়েজ দেওয়া যাবে না। একটি ভুল চয়েজ মানেই বছরের পর বছর ভোগান্তি।
সবশেষে বিবেচনায় রাখতে হবে, প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে সরকারি হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না। সরকারিকরণের সম্ভাব্য তালিকা, অবকাঠামো, ছাত্রসংখ্যা ও লোকেশন বিশ্লেষণ করে চয়েজ দিলে দীর্ঘমেয়াদে সুফল পাওয়া যেতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গণবিজ্ঞপ্তিতে সফল হতে হলে শুধু আবেদন করাই যথেষ্ট নয় সঠিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচনই একজন শিক্ষকের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দেয়।