Image description

‘জারোত হামরাগুলা শেষ হইনো বাহে, হামার ভিতি কায়েও দেখে না’— তিস্তা নদীবেষ্টিত ৯৭টি চরাঞ্চলের মানুষের এমন আকুতি। এ আকুতি সরকারসহ সমাজের বিত্তবানদের কাছে।

সরজমিনে চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর শীতের তীব্রতা বেশি হওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষরা চরম দুর্ভোগের কবলে পড়ে অসহায় জীবনযাপন করছেন। আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে হাড়কাঁপানো শীতের তীব্রতায় নিরুপায় হয়ে পড়েছে জেলার তিস্তা নদীবেষ্ঠিত ৯৭টি চরাঞ্চলের লাখো মানুষ। গত কয়েকদিন ধরে সূর্যের দেখা নেই। সেই সঙ্গে হাঁড় কাঁপানো ঠাণ্ডা বাতাসে চরাঞ্চল থেকে শুরু করে জেলার সর্বত্রই চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষগুলো। ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠাণ্ডার কারণে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না। তিস্তা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চল ও প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে শীত নিবারণের জন্য খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। শীতবস্ত্রের অভাবে এসব এলাকার হতদরিদ্র মানুষ চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

শীতের প্রকোপে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু, নারী ও বয়স্করা। গ্রামাঞ্চলের নিম্ন আয়ের ও দুস্থ মানুষ বিশেষ করে দিনমজুর, ছিন্নমূল ও চর এলাকার বাসিন্দারা পর্যাপ্ত শীতের কাপড় না থাকায় চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।

সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের তিস্তার কোলঘেঁষা বাসিন্দা কুলসুম বেগম বলেন, “সরকার আইসে সরকার যায় কিন্তু হামারগুলার কষ্ট আর যায়না বাহে’।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বন্যা ও নদীভাঙনে নিঃস্ব হয়ে সরকারি খাস জমি, রাস্তা ও বাঁধে আশ্রয় নেওয়া মানুষগুলো পড়েছেন চরম বিপাকে। অসহায় মানুষগুলো শীত আসলে তাকিয়ে থাকেন সরকারি কিংবা বেসরকারি সহায়তার দিকে। আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা ইউনিয়নের কৃষি শ্রমিক আলতাফ হোসেন, মোক্তার আলী, বাহার উদ্দিসহ আরো অনেকেই বলেন, পেটের তাগিদে কাজ করি। তাই রাত-দিন কষ্ট সহ্য করেই কাজ করতে হচ্ছে।

একই এলাকার রিকশাচালক গোলাম মোস্তফা বলেন, “কাজ না করলে সংসার চলবে না। তাই শীতের মধ্যেই রিকশা নিয়ে বের হইছি বাহে, কিন্তু হাঁড় কাপানো শীতে যাত্রীর দেখা মিলছে না। সকাল ছয়টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১০ টাকার ভাড়া পাইছি মাত্র।”

লালমনিরহাট শহরের মফিজ উদ্দিন বলেন, “প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় হাত-পা বরফের মতো হয়ে গেলেও জীবিকার তাগিদে কাজে বের হয়েছি।”

জেলার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. সামিরা হোসেন চৌধুরী জানান, তীব্র শীতে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে এবং শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন বহু শিশু হাসপাতালে আসছে। সর্দি-জ্বর, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া বেশি দেখা যাচ্ছে। কিছু শিশুর শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও খিঁচুনিও রয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. সাইখুল আরিফিন বলেন, “শীত ও ঠাণ্ডার মধ্যে আপাতত ফসল নিরাপদ রয়েছে এবং কৃষকদের ক্ষতি রোধে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।”

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার বলেন, “জেলায় ইতোমধ্যে বেশ কিছু কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। শীতার্ত মানুষের চাহিদা বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত কম্বলের জন্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। এসব কম্বল পেলেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে।


শীর্ষনিউজ