দেশের বেশিরভাগ শিশু অংশ নিচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষায়, বেড়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিতিও। তবে শিক্ষার গুণগত মানের উন্নতি হচ্ছে না; বরং শেখার ন্যূনতম দক্ষতায় ভয়াবহ ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। অধিকাংশ শিশু মৌলিক শিক্ষা ও গণিতে দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। ফলে প্রাথমিক স্তরেই পিছিয়ে পড়ছে পড়াশোনায়, নড়বড়ে হচ্ছে ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের ভিত্তি। যে কারণে পরবর্তী সময়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে উঠছে—যা দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য বড় হুমকি। বিশেষ করে দারিদ্র্যপীড়িত ও গ্রামীণ এলাকার শিশুরা সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে পড়ছে, যা বাড়াচ্ছে সামাজিক বৈষম্য। বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস)-২০২৫ শীর্ষক জরিপ প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেশের প্রথমিক শিক্ষার গুণগত মানের এমন ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এই এমআইসিএস জরিপের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ইউনিসেফের সহযোগিতায় করা এমআইসিএস জরিপের তথ্য বলছে, শিক্ষার বিস্তৃতি বাড়লেও মান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, ফলে প্রাথমিক স্তরেই শিশুদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে।
এর চেয়েও বড় শঙ্কার বিষয় হলো—দেশের শিক্ষার সার্বিক অবস্থা জরিপে উঠে আসা চিত্রের চেয়ে বাস্তবে আরও বেশি খারাপ বলে মত বিশেষজ্ঞদের। তারা বলছেন, এর পেছনে মূল কারণ শিক্ষা নীতি ও দর্শনের ঘাটতি। পাশাপাশি বারবার পাঠ্যক্রম পরিবর্তনও শিক্ষার মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
জরিপে ফাউন্ডেশনাল লার্নিং স্কিলস (এফএলএস) মডিউলে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়, যেখানে ৭ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুরা পাঠ ও সংখ্যাজ্ঞান পরীক্ষায় অংশ নেয়। পাশাপাশি শিক্ষা ব্যয়, সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থা ও অন্যান্য সূচক বিশ্লেষণের মাধ্যমে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের শনাক্ত করা হয়। এমআইসিএসের প্রাথমিক প্রতিবেদনে ১৭২টি সূচক উপস্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) সম্পর্কিত।
বিবিএসের এমআইসিএস জরিপ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দেশের প্রতি ১০টি শিশুর মধ্যে আটজনই প্রাথমিক বিদ্যালয় ভর্তি হয়। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষায় অংশগ্রহণের হার ৮০ শতাংশ এবং প্রাথমিকে তা ৮৪ শতাংশ হলেও প্রাথমিক স্তর পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চিত্র বদলে যায়। প্রাথমিকের ৮৪ শতাংশ থেকে নিম্ন মাধ্যমিক স্তরে উপস্থিতির হার নেমে আসে ৬০ শতাংশে এবং উচ্চ মাধ্যমিকে তা আরও কমে দাঁড়ায় ৫১ শতাংশে। নীতিগতভাবে প্রাথমিক শিক্ষায় অগ্রাধিকার থাকলেও শেখার মান নিশ্চিত না হওয়ায় পরবর্তী ধাপে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।
পড়তেই পারছে না অধিকাংশ শিশু: শিখন দক্ষতায় শিশুরা মারাত্মকভাবে পিছিয়ে। এমআইসিএসের ফাউন্ডেশনাল লার্নিং স্কিলস (এফএলএন) মডিউলের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির শিশুদের মধ্যে মাত্র ২৪ শতাংশের প্রাথমিক পাঠ দক্ষতা রয়েছে, বাকি ৭৬ শতাংশ পড়তে পারে না। একটি ছোটগল্পের ৯০ শতাংশ শব্দ সঠিকভাবে পড়তে পারে মাত্র ৩৯ শতাংশ শিশু, অর্থাৎ ৬১ শতাংশ শিশু সেটা পারে না। মৌলিক বোঝাপড়ার তিনটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারে মাত্র ৩২ শতাংশ, আর অনুমানভিত্তিক প্রশ্নে সফল মাত্র ৩০ শতাংশ। সেই হিসেবে প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না। অর্থাৎ, অধিকাংশ শিশু শ্রেণি অনুযায়ী প্রত্যাশিত পড়ার সক্ষমতা অর্জন করতে পারছে না।
গণিতের চিত্র ভয়াবহ: প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের গণিতে দক্ষতার মান তলানিতে নেমেছে। মৌলিক গণিতে শিশুদের দক্ষতা আরও কম। তারা সংখ্যার সঙ্গে পরিচিত হতে এবং সহজ যোগ-বিয়োগও করতে পারছে না। জরিপের তথ্য বলছে, পাঠের তুলনায় সংখ্যাজ্ঞানের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণির শিশুদের মধ্যে মাত্র ১৮ শতাংশ মৌলিক সংখ্যাজ্ঞান দক্ষতা দেখাতে পেরেছে। অর্থাৎ ৮২ শতাংশ শিশুরই নেই সংখ্যাজ্ঞান।
সাধারণ যোগ-বিয়োগ করতে পারে মাত্র ৩৬ শতাংশ শিক্ষার্থী। অর্থাৎ দ্বিতীয় এবং তৃতীয় শ্রেণীর ৬৬ শতাংশ শিক্ষার্থী যোগ-বিয়োগ পারে না। সংখ্যা পড়তে পারে মাত্র ৩১ শতাংশ, সংখ্যার পার্থক্য নির্ণয় করতে পারে ৩৬ শতাংশ শিশু এবং প্যাটার্ন শনাক্ত ও সম্পন্ন করতে পারে মাত্র ৩৩ শতাংশ। এসব তথ্য প্রমাণ করে, তারা সংখ্যার সঙ্গে পরিচিত হতে এবং সহজ যোগ-বিয়োগও করতে পারছে না। গণিতে এ দুর্বলতা প্রাথমিক স্তরেই ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনকে ঝুঁকিতে ফেলছে।
অথচ, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সাবলীলভাবে পাঠ্যবই পড়া, সহজ যুক্তবর্ণ চেনা ও শব্দ গঠন, ১০০ পর্যন্ত সংখ্যা গণনা এবং প্রাথমিক যোগ-বিয়োগ করতে পারার কথা। আর তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের তুলনামূলক বড় লেখা পড়ে মূলভাব বোঝা ও লেখা, সহজ ইংরেজি বাক্যে পরিচয় দেওয়া, চার অঙ্ক পর্যন্ত সংখ্যা গণনা, বড় সংখ্যার যোগ-বিয়োগসহ গুণ ও ভাগের প্রাথমিক ধারণা এবং ত্রিভুজ-চতুর্ভুজ শনাক্ত করার দক্ষতা থাকার কথা।
শিক্ষায় দারিদ্র্য ও বৈষম্যের ছায়া: শেখার ঘাটতির সঙ্গে দারিদ্র্য সরাসরি যুক্ত। প্রতিবেদন বলছে, দরিদ্র পরিবারের শিশুরা স্কুলে যাওয়ার ও শিক্ষা সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে পিছিয়ে, আর সবচেয়ে ধনী পরিবারের শিশুরাই তুলনামূলকভাবে এগিয়ে, যা সামাজিক বৈষম্য আরও বাড়াচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন না করার হার দরিদ্র শিশুদের মধ্যে ৪৮ শতাংশ, যেখানে ধনী শিশুদের প্রায় শতভাগ প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করছে। এই চিত্র ছেলে ও মেয়ে—উভয়ের ক্ষেত্রেই। প্রাথমিক স্তরে ছেলে ও মেয়ের মধ্যে উপস্থিতি এবং শিক্ষার মানে পার্থক্য দেখা যায়। প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন না করার হার ৪৮ শতাংশ, যা মাধ্যমিকে ৪৪ শতাংশ এবং উচ্চ মাধ্যমিকে ৪৫ শতাংশে দাঁড়ায়। প্রাথমিক স্তরে ছেলেদের ঝরে পড়ার প্রবণতা মেয়েদের তুলনায় বেশি হলেও মাধ্যমিক পর্যায়ে এ ব্যবধান কিছুটা কমে আসে।
শিশুদের বিকাশেও ঘাটতি: প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, শিশুদের প্রাথমিকেই শিক্ষা ও বিকাশে সহায়তা সীমিত। বাড়িতে শিক্ষামূলক কার্যক্রমে বাবা-মার সম্পৃক্ততা কম, খেলনা ও বইয়ের অভাব দেখা যাচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষায় সহায়তা না থাকায় শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশও প্রভাবিত হচ্ছে। ৩ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশুদের মা ২৭ শতাংশ, বাবা মাত্র ২ শতাংশ শিক্ষামূলক কার্যক্রমে যুক্ত। মাত্র ৮ শতাংশের বাড়িতে তিনটি বা ততোধিক বই আছে। ৩৩ শতাংশ শিশু বাড়িতে হোমওয়ার্কে সহায়তা পায়। শিশুদের প্রাথমিক বিকাশ (ইসিডি) সূচক অনুযায়ী, দরিদ্র শিশুদের বিকাশ ৬২ শতাংশ, যেখানে ধনী শিশুদের ক্ষেত্রে তা ৭৯ শতাংশ।
তবে ইতিবাচক দিক হলো, অভিভাবক সম্পৃক্ততার হার তুলনামূলক ভালো। ৬৩ শতাংশ শিশু রিপোর্ট কার্ড পেয়েছে, ৬৩ শতাংশ স্কুলে অভিভাবকদের জন্য পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক উন্মুক্ত এবং ৭৩ শতাংশ অভিভাবক সন্তানের অগ্রগতি নিয়ে শিক্ষকের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তবুও শেখার ফল কেন বাড়ছে না—এ প্রশ্নই বড় হয়ে উঠছে।
বিভাগভিত্তিক শিক্ষায়ও বৈষম্য: দেশে প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষায় বড় ধরনের ফাঁক ও বিভাগভিত্তিক বৈষম্য লক্ষ করা গেছে। প্রাথমিক শিক্ষায় উপস্থিতি ৮৪ শতাংশ হলেও, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে তা মাত্র ৪৪ শতাংশ। বিভাগভিত্তিক তথ্য দেখায়, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষায় চট্টগ্রামে উপস্থিতি সর্বোচ্চ ২১ দশমিক ৪ শতাংশ, সিলেটে সর্বনিম্ন ১৩ শতাংশ। প্রাথমিক শিক্ষায় খুলনায় ৮২ দশমিক ৯ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৭৩ দশমিক ৪ শতাংশ; উচ্চ মাধ্যমিকে খুলনা ৬৮ দশমিক ৭ শতাংশ, সিলেটে ৫৪ দশমিক ৬ শতাংশ। বিভাগভিত্তিক এ পার্থক্য দরিদ্র ও গ্রামীণ এলাকার শিক্ষার দুরবস্থা নির্দেশ করে।
শিক্ষা সম্পন্ন হারের বিভাজনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্নকারীদের মধ্যে বরিশাল সর্বোচ্চ ৮৮ দশমিক ২ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ ৭৮ দশমিক ৮ শতাংশ হার নিয়ে রয়েছে সর্বনিম্ন অবস্থানে। নিম্ন মাধ্যমিক শেষ করার হার রংপুরে ৭৪ দশমিক ১ শতাংশং সর্বোচ্চ, সিলেট ৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ সর্বনিম্ন। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্নের হারে রাজশাহী ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ সর্বোচ্চ, সিলেট ৩৪ শতাংশ সর্বনিম্ন। এই এমআইসিএসের তথ্যে দেখা যায় যে, সব বিভাগেই নিম্ন মাধ্যমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত স্কুলে উপস্থিতির হার কমছে, বিশেষ করে কিছু বিভাগে এ উপস্থিতি অনেক কম। এ প্রেক্ষাপট নির্দিষ্ট সামাজিক-সাংস্কৃতিক অথবা অর্থনৈতিক কারণে হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সার্বিক তথ্য বিশ্লেষণে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার করুণ চিত্র উঠে এসেছে। প্রাথমিক স্তরেই ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে পড়ছে। যদিও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় শিশুদের উপস্থিতি তুলনামূলক ভালো, তবে শেখার মান নিশ্চিত হচ্ছে না। এতে প্রশ্ন উঠেছে—শুধু উপস্থিতি থাকলেই কি শিক্ষা কার্যকর হয়? প্রাথমিক স্তরেই যদি শিশু পড়া ও মৌলিক অঙ্কে দক্ষতা অর্জন করতে না পারে, তবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় তাদের টিকে থাকা কতটা সম্ভব—এটাই এখন দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষার শুরুর বছরেই পড়া ও সংখ্যাজ্ঞানের ভিত্তি তৈরি হয়। কিন্তু কার্যকর শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীর স্তরভিত্তিক পাঠদান এবং অভিভাবক-কমিউনিটির সম্পৃক্ততার অভাবে এই ভিত্তি দুর্বল থেকে যাচ্ছে। ফলে স্কুলে উপস্থিত থাকলেও অনেক শিশু পড়া ও মৌলিক গণিতে দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। তারা মনে করেন, এ ঘাটতি দেশের ভবিষ্যৎ শিক্ষাব্যবস্থাকে ঝুঁকিতে ফেলছে। তাই প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষার মান ও উপস্থিতি সমান করতে নীতিগত এবং বাস্তব পদক্ষেপ জরুরি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান কালবেলাকে বলেন, ‘শিক্ষার প্রতি আমাদের জাতিগত অবহেলা, অমনোযোগ ও তুচ্ছতাচ্ছিল্যেরই বহিঃপ্রকাশের একটি চিত্র উঠে এসেছে এ জরিপে। বাস্তবতা হলো, দেশের শিক্ষার অবস্থা জরিপে উঠে আসা চিত্রের চেয়েও আরও বেশি খারাপ। প্রাথমিক বিদ্যালয়েই একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের ভিত্তি গড়ে ওঠে, অথচ ঠিক এই স্তরেই আমাদের সংকট সবচেয়ে গভীর। এর পেছনে মূল কারণ শিক্ষা নীতি ও দর্শনের ঘাটতি। পাশাপাশি বারবার কারিকুলাম পরিবর্তন শিক্ষার মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’
শিক্ষার মান উন্নয়নে সবার আগে মানসম্মত শিক্ষক, স্পষ্ট শিক্ষা দর্শন ও কার্যকর নীতির প্রয়োজন উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক বলেন, ‘শিক্ষায় বরাদ্দ তুলনামূলকভাবে কম এবং যে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তার বড় অংশ শিক্ষার মূল কাজে ব্যয় না হয়ে অবকাঠামো উন্নয়নে খরচ করা হয়। এভাবে শিক্ষার প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য দরকার শিক্ষা কমিশন গঠন। বহুবার শিক্ষা কমিশন গঠনের কথা বলা হলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।’ শিক্ষার মানোন্নয়নে একটি স্বাধীন ও কার্যকর শিক্ষা কমিশন গঠন এখন সময়ের দাবি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়) মাসুদ আকতার খান গত ২৯ ডিসেম্বর কালবেলাকে বলেন, ‘শিক্ষার মানে কিছু ঘাটতি থাকলেও তা কাটাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন প্রকল্পসহ নানা কার্যক্রম এরই মধ্যে শুরু হয়েছে, যার সুফল পেতে কিছুটা সময় লাগবে। শিক্ষক বাড়ানোসহ বিদ্যালয় মনিটরিং বাড়ানো হচ্ছে এবং পিডিপি-৫ নামে নতুন একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা।’ এসব উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে দেশের বিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনার মান আরও উন্নত হবে বলে তিনি আশাবাদী।
এদিকে, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের মান উন্নয়নে মূল্যায়ন নির্দেশিকা তৈরি করছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন এ পদ্ধতিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে আগে শ্রেণি কার্যক্রম থাকলেও ২০২৬ সালে সামষ্টিক মূল্যায়ন (লিখিত পরীক্ষা) যুক্ত করা হয়েছে। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে শ্রেণি মূল্যায়ন এবং সামষ্টিক মূল্যায়নের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে ব্যাবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা।
এ প্রসঙ্গে এনসিটিবি সদস্য (কারিকুলাম) মুহাম্মদ ফাতিহুল কাদীর কালবেলাকে বলেন, ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) প্রস্তাব অনুযায়ী প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার মান বাড়াতে নতুন করে মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এরই মধ্যে দুই স্তরে মূল্যায়ন পদ্ধতি পরিবর্তনের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে প্রস্তাব করা হয়েছে। সেখানে সামষ্টিক মূল্যায়নের সঙ্গে ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কো-কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটিসও মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে।’