তিন দফা পেছানোর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে ৩৯টি কেন্দ্রে ১৭৮টি বুথে মোট ১৬ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) সকালে ভোট শুরুর আগে নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে। ভোটগ্রহণ সকাল সাড়ে ৮টায় শুরু হয়ে বিকেল ৩টায় শেষ হবে।
এদিকে নির্বাচন উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি গোয়েন্দা সদস্যদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের ভিক্টোরিয়া পার্কে পুলিশের একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে।
নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভোট প্রদানকারী শিক্ষার্থীরা কেবলমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবেন। ভোটদান শেষে শিক্ষার্থীদের ২ ও ৩ নম্বর গেট দিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে হবে।
নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই শুধু ২ নম্বর গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবেন। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবশ্যই আইডি কার্ড প্রদর্শন করে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে হবে এবং জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত ক্যাম্পাসের বাইরে যাতায়াত করতে পারবেন না।
নির্বাচনের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংক গেট ও পোগোজ স্কুল গেট সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের ভেতরে বসবাসরত কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যদের ভোট চলাকালীন ক্যাম্পাসে ঘোরাফেরা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতির কথা জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. জুলফিকার মাহমুদ বলেন, আমাদের নির্বাচনসংক্রান্ত সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আশা করি, সবার অংশগ্রহণে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, অত্যন্ত সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী এ কে এম রাকিব বলেন, আগামীকাল (মঙ্গলবার) আমাদের কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন, যার জন্য আমরা অনেক আগে থেকেই আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিগত দিনেও ছিলাম, আগামীতেও থাকব। আশা করছি, উৎসবমুখর পরিবেশে একটি ভালো নির্বাচন হবে।
ছাত্রশিবির সমর্থিত ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের প্রচারণায় অংশগ্রহণ করছেন। বাংলাদেশের অন্যান্য ক্যাম্পাসগুলোতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা যেভাবে শিবিরের ওপর আস্থা রেখেছে, জকসুতেও একইভাবে আস্থা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী।
এদিকে তিন দফা নির্বাচন পেছানোর পর ভোটার উপস্থিতি নিয়ে চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ‘মাওলানা ভাসানী ব্রিগেড’ প্যানেলের জিএস প্রার্থী ইভান তাহসিভ। তিনি বলেন, তিন দফা নির্বাচন পেছানোয় ভোটার উপস্থিতি নিয়ে চ্যালেঞ্জ আছে, তবে আশাকরি ভোটাররা তাদের মূল্যবান ভোট দিতে আসবেন।
জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র পদে ৪ জন, শিক্ষা ও গবেষণা পদে ৯ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে ৫ জন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে ৫ জন, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে ৪ জন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে ৮ জন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ৭ জন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ৭ জন, পরিবহন সম্পাদক পদে ৪ জন, সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণ সম্পাদক পদে ১০ জন, পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক পদে ৭ জন এবং সদস্য পদে ৭ জনের বিপরীতে মোট ৫৭ জন প্রার্থীর প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
ছাত্রী হলে ১৩ পদের মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ৩ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৩ জন, সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ২ জন, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ২ জন, সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ৪ জন, পাঠাগার সম্পাদক পদে ২ জন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ২ জন, সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণ সম্পাদক পদে ৩ জন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে ৪ জন এবং ৪টি সদস্য পদের বিপরীতে ৮ জন প্রার্থীর প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করেছে হল সংসদ।
প্রসঙ্গত, গত ৩০ ডিসেম্বর জকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জরুরি সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে জকসু নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে পুনরায় ৬ জানুয়ারি জকসু নির্বাচনের নতুন তারিখ নির্ধারণ করে কর্তৃপক্ষ।