Image description
 

৫ আগস্ট গণঅভ্যুথান পরবর্তী ড. ইউনুস সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতে তড়িঘড়ি করে নিয়োগ পান বিতর্কিত কর্মকর্তা এ এফ এম শাহীনুল ইসলাম। বিএফআইইউতে তার কর্ম অভিজ্ঞতা ছিল অত্যন্ত অল্প সময়ের এবং কর্মকর্তা হিসেবেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত অদক্ষ। নিয়োগ কমিটির সুপারিশ উপেক্ষা করে সম্পূর্ণ অবৈধ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেওয়া হয় এই কর্মকর্তাকে। শেষ পর্যন্ত অনেক কেলেঙ্কারির পর গত সেপ্টেম্বরে তাকে পদ থেকে অপসারণ করতে বাধ্য হয়। সেই থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। ইতিমধ্যে নিয়োগ কমিটি কর্তৃক যাচাই-বাছাইও হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, খুব শিগগিরই এই পদে নতুন নিয়োগ দেয়া হতে পারে। কিন্তু নতুন বিএফআইইউ প্রধান কে হচ্ছেন এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে বিভিন্ন মহলে। কারণ, এই পদটির ওপর সরকারের অনেক কিছুরই স্বচ্ছতা নির্ভর করে। শাহীনুল ইসলামের পূর্বে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলে নিয়োগ পান মাসুদ বিশ্বাস বিশেষ একটি ব্যবসায়ী গ্রুপের প্রত্যক্ষ তদবির, হস্তক্ষেপ ও বিধিমালার শর্ত লঙ্ঘন করে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এর নেতৃত্বে বাছাই কমিটিতে বিএফআইইউ প্রধান পদে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন প্রায় এক ডজন কর্মকর্তা, যাদেরকে প্রায় ৪৫ জন কর্মকর্তার মধ্য হতে বিভিন্ন ক্রাইটেরিয়া ধরে বাছাই করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে বিএফআইইউ এর প্রধান পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের আর্থিক গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রস্তুতে দক্ষতা, সুপারভিশন ক্ষমতা, মানসম্মত আর্থিক বুদ্ধিমত্তা প্রস্তুতির ক্ষমতা, আলোচনার সক্ষমতা, বিশ্বের অন্যান্য দেশের ঋওট এর সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা সহ পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থাকা জরূরী। বিগত দুইটি নিয়োগ প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় এবার অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এ পদে নিয়োগ দেয়া আবশ্যক বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টজনেরা।

তাছাড়া মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা অনুযায়ী মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বিএফআইইউ-এ ৩ বছরের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। আর্থিক খাত বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্থিক অনিয়ম প্রতিরোধে ভূমিকা রেখেছেন এবং এক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেয়া হলেই বিএফআইইউ-এর মত সংবেদনশীল আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারবে। কেননা ফ্যাসিস্ট আমলে ১৬/১৭ বছর সবচেয়ে বেশি লুটপাট হয়েছে আর্থিক খাতে। পাচারকৃত অর্থ পুনরূদ্ধার করতে হলে এবং আর্থিক সেক্টরে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হলে এ সংস্থায় একজন অভিজ্ঞ, মাফিয়া ব্যবসায়ীদের প্রভাবমুক্ত, সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেয়া জরুরি। তাছাড়া পরপর কয়েকটি বিতর্কিত নিয়োগের পর এখন আবার বিতর্কিত ও অদক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট খাতে অভিজ্ঞতা নেই এমন কাউকে নিয়োগ দেয়া হলে তা সমগ্র দেশের জন্য আত্মঘাতী হবে বলে মনে করা হচ্ছে। BFIU সাধারণত ‘Financial Intelligence’ Law Enforcement এ সরবরাহ করে থাকে, যা produce করা হয় Financial transaction কে ভিত্তি করে। এক্ষেত্রে evidence based financial intelligence সরবরাহ করতে না পারলে prosecution সফলতা আশা করা যায়না এবং এ কাজটি একমাত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের দ্বারাই নিপুণভাবে সম্ভব বলে মনে করেন আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞরা।

শীর্ষনিউজ