বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী সমাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আপসহীন নেতৃত্ব, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার অবদান স্মরণ করে মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে খোলা শোকবইয়ে স্বাক্ষরের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন কূটনীতিক, প্রবাসী কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
১ ও ২ জানুয়ারি কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে খোলা শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন মালয়েশিয়ায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কূটনীতিকরা।
তারা খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে তার ভূমিকা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় অবদানের কথা স্মরণ করে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কূটনীতিকদের এই উপস্থিতি প্রয়াত নেত্রীর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও সম্মানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।
এর ধারাবাহিকতায় শনিবার ( ৩ জানুয়ারি) মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষ—বিভিন্ন পেশাজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, প্রবাসী সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ—দলে দলে বাংলাদেশ হাইকমিশনে উপস্থিত হয়ে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন। আবেগঘন পরিবেশে তারা বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
শোকবইয়ে স্বাক্ষরকারীরা তাদের অনুভূতিতে বেগম খালেদা জিয়াকে ‘আপোষহীন নেতৃত্বের প্রতীক’, ‘গণতন্ত্রের নির্ভীক সৈনিক’ এবং ‘দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক অগ্রদূত’ হিসাবে অভিহিত করেন। অনেকেই উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও ব্যক্তিগত দুঃখ-কষ্টের মাঝেও তিনি দৃঢ়চিত্তে দেশের মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা জানান, শোকবইয়ে স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে প্রবাসেও গভীরভাবে প্রোথিত। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত শোকবই হাইকমিশনে উন্মুক্ত থাকবে এবং পরবর্তী সময়ে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা বলেন, প্রয়াত এই নেত্রীর স্মৃতি তাদের হৃদয়ে চিরদিন অমলিন থাকবে। শোকের এই সময়ে তারা তার রাজনৈতিক আদর্শ, সংগ্রাম ও অবদানের কথা স্মরণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন—যা প্রবাসে থেকেও মাতৃভূমির প্রতি তাদের গভীর আবেগী বন্ধনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।