
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিদেশি শিক্ষার্থীদের থাকার একমাত্র আবাসিক জায়গা স্যার পি.জে. হার্টগ ইন্টারন্যাশনাল হল। এই হলের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে চীনা কয়েকজন ছাত্রীকে ‘বিরক্ত’ করার পাশাপাশি তাদের রুম থেকে গিয়ে ‘টাকা চুরি’রও অভিযোগ উঠেছে। পরে ভুক্তভোগীরা হল প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়। অভিযুক্ত ওই কর্মচারীর নাম পারভেজ মিয়া। তিনি ওই হলের নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে কর্মরত আছেন।
জানা গেছে, ওই হলের আবাসিক শিক্ষকদের নিয়ে গঠিত তথ্যানুসন্ধান কমিটি পারভেজ মিয়াকে কারণ দর্শানো চিঠি দেয়। চিঠির জবাব তিনি সন্তোষজনক দিতে না পারায় তার বিরুদ্ধে শাস্তি নির্ধারণ করে তথ্যানুসন্ধান কমিটি। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তার একটি বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বন্ধ এবং পাঁচ দিনের বেতন কর্তন করার সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভায় বিষয়টি তোলা হয়। যদিও সিন্ডিকেটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি জানা যায়নি।
জানতে চাইলে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক এম এ কাউসার দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ওই নিরাপত্তা প্রহরীর বিরুদ্ধে টাকা চুরি করার অভিযোগ এসেছে। পরে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে তদন্ত কমিটি শাস্তি নির্ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়। তবে সিন্ডিকেটের সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি জানাতে পারেননি তিনি।
প্রভোস্ট অধ্যাপক এম এ কাউসার দাবি করেন, ভবিষ্যতে যাতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করতে সাহস না করে, সে জন্য এ শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পারভেজ মিয়া ওই হলে বসবাসরত চীনা ছাত্রীদের বিরক্ত করতেন। পাশাপাশি গত ৪ এপ্রিল হলের ১২৭ নম্বর কক্ষের দরজা ধাক্কা দিয়ে একজন ছাত্রীরকাছ থেকে মোবাইল ফোন মেরামত করার জন্য এক হাজার টাকা ধার নেওয়ার বিষয়ে চীনা ৬ জন ছাত্রী লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট হল প্রশাসন একটি তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করে এবং পারভেজ মিয়াকে কারণ দর্শানো চিঠি ইস্যু করা হয়। তার লিখিত জবাব হল সন্তোষজনক না হওয়ায় তথ্যানুসন্ধান কমিটির বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে। হলের প্রভোস্ট তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে একটি বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বন্ধ এবং পাঁচ দিনের বেতন কর্তন করার অনুরোধ করেন। পরে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিমের (এসএমটি) সভায়ও আলোচনা হয়।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সিন্ডিকেট সভায় এই শাস্তি বিষয়টি বিবেচনার জন্য এজেন্ডায় তোলা হয়। তবে তা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, জানা যায়নি। জানতে চাইলে ঢাবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ মুঠোফোনে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এজেন্ডা দেখে বিষয়টি বলতে হবে। তাই এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।