Image description
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত । ইসির সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে । এ সিদ্ধান্ত কবে থেকে কার্যকর , তা বলা হয়নি । গত ৮ বছরে নাগরিকত্ব ছেড়েছেন ২,৬০৬ জন । ২০১৭ সালের আগে নাগরিকত্ব ত্যাগের তথ্য নেই ।
বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করা ব্যক্তিদের জাতীয় পরিচয়পত্র ( এনআইডি ) তাৎক্ষণিক বাতিল করা হবে । ভোটার তালিকা থেকেও তাঁদের নাম তাৎক্ষণিক বাদ দেওয়া হবে । নির্বাচন কমিশন ( ইসি ) এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে । ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের সভাপতিত্বে ১৮ মার্চের সমন্বয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় । এ ক্ষেত্রে তথ্যের কোনো ঘাটতি থাকলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে । ১৯ মার্চ করা সভার কার্যবিবরণী থেকে এসব তথ্য জানা গেছে । তবে এ সিদ্ধান্ত কবে থেকে কার্যকর , হবে তা বলা হয়নি । সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী , জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক ( পরিচালনা ) ও ইসির উপসচিব ( নির্বাচন সহায়তা ও সমন্বয় ) এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবেন । এ পর্যন্ত কতজন বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছেড়েছেন বা ইতিমধ্যে কতজনের এনআইডি বাতিল করা হয়েছে — এ প্রশ্নে জাতীয় পরিচয়

নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর আজকের পত্রিকাকে বলেন , এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না । স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী , ২০১৭ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর পর্যন্ত ২ হাজার ৬০৬ জন বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ছেড়েছেন । তাঁদের মধ্যে ২০১৭ সালে ১১৯ , ২০১৮ সালে ৩৬৫ , ২০১৯ সালে ৩৫৬ , ২০২০ সালে ৩২৩ , ২০২১ সালে ১৬৫ , ২০২২ সালে ৪২১ , ২০২৩ সালে ৫৪৮ এবং ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর পর্যন্ত ৩০৯ জন বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছেড়েছেন ।

বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছেড়ে সবচেয়ে বেশি নাগরিকত্ব নিয়েছেন ইউরোপের দেশ জার্মানির । এরপর রয়েছে অস্ট্রিয়া এবং এশিয়ার দেশ সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া । একই সময়ে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়েছেন ১৪ হাজার ৬৮৫ জন । স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন , মন্ত্রণালয় বিভক্ত হওয়ার পর নাগরিকত্ব ত্যাগের তথ্য হারিয়ে গেছে । ফলে ২০১৭ সালের আগে কতজন বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন , সে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগে নেই । তাঁদের ধারণা , ২০১৭ সালের আগে সংখ্যাটি এখনকার তুলনায় বেশ কম ছিল ।

সূত্র জানায় , গত ৮ বছরে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করা ব্যক্তিরা ৪০ টির বেশি দেশের নাগরিকত্ব নিয়েছেন । তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ২৮১ জন জার্মানির , ৩৯২ জন অস্ট্রিয়ার , ১৮০ জন সিঙ্গাপুরের , ১৫১ জন ভারতের , ৫৭ জন নরওয়ের , ২৫ জন যুক্তরাজ্যের , ১৭ জন ইউক্রেনের , ১৫ জন শ্রীলঙ্কার , ১৩ জন করে অস্ট্রেলিয়া , দক্ষিণ কোরিয়া ও ইরানের , ১১ জন ইন্দোনেশিয়ার ও ৯ জন বুলগেরিয়ার নাগরিকত্ব নিয়েছেন । এ ছাড়া পাকিস্তান ও মিয়ানমারের নাগরিকত্ব নিয়েছেন চারজন করে । কোনো কোনো দেশের পাসপোর্ট পাওয়ার শর্ত হিসেবে আগের দেশের নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করতে হয় । আবার কোনো কোনো দেশের পাসপোর্ট পাওয়ার পর নাগরিক হিসেবে শপথ নিতে হলে আগের নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করতে হয় । এ জন্য ওই বাংলাদেশিরা নাগরিকত্ব ছেড়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানান ।

ইসির নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করা এই ব্যক্তিদের বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র বাতিল হবে এবং ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ পড়বে । বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশও বিদেশি কিছু ব্যক্তিকে নাগরিকত্ব দিয়েছে । সূত্র জানায় , ১৯৮৮ সালে প্রথম চারজন বিদেশিকে নাগরিকত্ব দেয় বাংলাদেশ । এরপর ১৯৮৯ সালে নাগরিকত্ব পান ৩৩ জন বিদেশি । ২০০৩ ও ২০১০ সাল ছাড়া প্রতিবছরই কিছু না কিছু বিদেশিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে । সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৪৫২ জন বিদেশি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পেয়েছেন । তাঁদের বেশির ভাগই বৈবাহিক সূত্রে নাগরিকত্ব পেয়েছেন । দীর্ঘদিন ধরে এ দেশে বসবাসের কারণেও বেশ কয়েকজনকে নাগরিকত্ব দেওয়া হয় । দ্বৈত নাগরিক ৩৪ হাজার : ১৯৮৮ সাল থেকে বাংলাদেশিদের দ্বৈত নাগরিকত্ব অনুমোদন করছে সরকার । ওই বছর ২২৭ জনকে দ্বৈত নাগরিকত্ব দেওয়া হয় । এখন পর্যন্ত কমবেশি ৩৪ হাজারজনের দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে ।