
সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সন্তান মাহী বি চৌধুরীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কেসি মেমোরিয়াল ক্লিনিক কয়েক বছর ধরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) আয়কর রিটার্ন জমা দেয়নি। প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে বকেয়া কর আদায়ে তৎপরতা শুরু করেছে এনবিআর। এরই মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থতার কারণ জানতে চেয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে নোটিশ দিয়েছে আয়কর আপিল ট্রাইবুন্যাল। এর মধ্যেই জানা গেছে, ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর হাতে গড়া পারিবারিক প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে গতকাল বুধবার রাতে মাহী বি চৌধুরীর মোবাইল ফোনে কল করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কয়েক বছর ধরে আয়কর রিটার্ন জমা না দেওয়ার কারণে রাজধানীর বারিধারার কেসি মেমোরিয়াল ক্লিনিকের মালিকদের কাছে প্রথমে নোটিশ পাঠায় সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চল। এতে কাজ না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থতার কারণ জানতে চেয়ে নোটিশ দেন এনবিআরের বিচারিক সংস্থা আয়কর আপিল ট্রাইবুন্যাল। সেই নোটিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জানুয়ারি কেসি মেমোরিয়াল ক্লিনিকের মালিকদের ওই নোটিশ দেওয়া হয়, যেখানে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টার মধ্যে ট্রাইবুন্যালে হাজির হয়ে রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থতার কারণ জানাতে শুনানির দিন ধার্য করার কথা উল্লেখ ছিল। শুনানিতে প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষ বা তার মনোনীত প্রতিনিধির মাধ্যমে জবাব দিতে বলা হয়েছিল।
তবে সেই শুনানিতে কেসি মেমোরিয়ালের পক্ষ থেকে কেউ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হননি বলে নিশ্চিত করেছে ট্রাইবুন্যাল সূত্র। এ বিষয়ে জানতে কেসি মেমোরিয়ালের ফোন নম্বরে কল দিলে রিসিভ করেন জাহিদুল ইসলাম নামের এক কর্মী। তিনি কালবেলাকে বলেন, কেসি মেমোরিয়াল ক্লিনিকটির কার্যক্রম প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। কেন বন্ধ জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি, তবে ক্লিনিকটির মালিকপক্ষ বন্ধ করে দিয়েছেন বলে জানান। সেইসঙ্গে মালিক হিসেবে তিনি প্রয়াত রাষ্ট্রপতির ছেলে মাহী বি চৌধুরীর কথা বলেন।
জাহিদুল আরও জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে অনেক সেবাগ্রহীতা ফোন করেন। এ কারণেই এই নম্বরটি খোলা রাখা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রতিষ্ঠানটিতে দুয়েকজন কর্মী ছাড়া আর কেউ থাকেন না। শুধু আগের দেওয়া ফোন নম্বরে কোনো কল এলে তা রিসিভ করেন জাহিদুল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, কেসি মেমোরিয়ালের নামে দফায় দফায় নোটিশ পাঠিয়েও কোনো লাভ হয়নি। গত কয়েক অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি আয়কর রিটার্ন জমা দেয়নি। প্রতিষ্ঠানটি আয়কর বিভাগকে সহযোগিতা করছে না। শুনানিতেও প্রতিষ্ঠানের কেউ আসেননি।