Image description

জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদের ভাস্কর্য বিভাগের চেয়ারম্যান পদে আবু আবেদীন মো. কাওসার হাসানের নিয়োগ কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক অধ্যাপক লালা রুখ সেলিমকে কেন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

অধ্যাপক লালা রুখ সেলিমের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী ইয়াসির আরফাত খান ও আরিফুর রহমান।

রিট আবেদন সূত্রে জানা যায়, ভাস্কর্য বিভাগের বিদায়ী চেয়ারম্যানের তিন বছর মেয়াদি দায়িত্বের মেয়াদ গত ২৯ সেপ্টেম্বর শেষ হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, কোনো বিভাগের চেয়ারম্যানের মেয়াদ শেষ হওয়ার এক মাস আগে পরবর্তী চেয়ারম্যান নিয়োগের বিষয়ে দায়িত্বে থাকা চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়। তবে এ ক্ষেত্রে তা করা হয়নি বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, বিদায়ী চেয়ারম্যানের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ভাস্কর্য বিভাগের একাডেমিক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অধ্যাপক লালা রুখ সেলিমকে পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে তৎকালীন চেয়ারম্যানকে চিঠিও দেওয়া হয়। তবে বিভাগের একাডেমিক কমিটির ওই সুপারিশ উপেক্ষা করে গত ২১ সেপ্টেম্বর আবু আবেদীন মো. কাওসার হাসানকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তার নিয়োগ ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়।

জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে এ নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন অধ্যাপক লালা রুখ সেলিম। রিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এবং সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়।

আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ভাস্কর্য বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে অধ্যাপক লালা রুখ সেলিমকে নিয়োগ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তা-ও জানতে চেয়েছেন আদালত। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও ভাস্কর্য বিভাগের চেয়ারম্যানকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।