Image description

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ডিউটি চিকিৎসকদের কারও ড্রেসআপ না থাকায় তারা চিকিৎসক, নার্স নাকি দালাল; তা বুঝা মুশকিল বলে মন্তব্য করেছেন দুদক চেয়ারম্যান।

বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে হাসপাতালে অভিযান চালায় দুদক। এসময় চিকিৎসকদের কয়েকটি কক্ষে তাদের উপস্থিতি না পেয়ে শোকজের নির্দেশ দেন দুদক চেয়ারম্যান।

দুদক চেয়ারম্যান বিচারপতি এ. কে. এম. আসাদুজ্জামান বলেন, এখানকার রোগীদের সব সময় অভিযোগ থাকে, কারা ঠিকমত চিকিৎসা পান না, চিকিৎসক থাকেন না। এবিষয়টি প্রধানমন্ত্রীও উদ্বিগ্ন। তিনি সেজন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ কয়েকটি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। আজকে আমরা (দুদক) ঢাকা মেডিকেলে এসেছি। এরপর অন্যান্য হাসপাতালেও যাব।

তিনি বলেন, ঢাকা মেডিকেলে এসে জরুরি বিভাগে কয়েকটি রুমে চিকিৎসকদের পাইনি। জরুরি বিভাগের ডা. তানভির, এছাড়া নিওরোসার্জারি বিভাগের প্রদানকেও তার রুমে পাইনি। জরুরি বিভাগের ডিউটি ডাক্তার কারোর ড্রেসআপ নেই। তারা ডাক্তার, নার্স নাকি দালাল তা বুঝা মুশকিল৷ এজন্য ডাক্তারদের আইডেন্টিফাই করতে পারছি না। তারা সেবা দিচ্ছে কি না সেটিও জানি না। এখন বাজে বেলা সোয়া বারোটা, ডাক্তারদের কেউ বলছেন বাইরে গেছেন, কেউ বলছেন চা খেতে গেছেন। রোগীরা চিকিৎসার জিনিসপত্র খুঁজতে দৌড়ে বেড়াচ্ছেন। এতে আসলে জনগণ ঠিকমত সেবা পাচ্ছেন না। 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা হাসপাতাল পরিচালককে বলে গেলাম, অনুপস্থিত চিকিৎসকদের শোকজ করতে। আমরাও আইনগত ব্যবস্থা নেব।

সরকারি হাসপাতালটিতে দালালের দৌরাত্ম ও চিকিৎসকদেরও সরাসরি দালালি ও রোগী ভাগানোর সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আমরা তাদের বিরুদ্ধেও এ্যাকশনে যাব। প্রাইভেট হাসপাতালের এটি একটি ব্যবসা। এটি বন্ধ করতে সরকার ব্যবস্থা নেবে। এটি আমাদের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না। 

এসময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ. কে. এম. ফরহাদ হোসেন বলেন, আমি হাসপাতালটিতে নতুন এসেছি। আসার পর কিছু পরিবর্তন করতে পেরেছি। দুদক চেয়ারম্যান যে বিষয়গুলো বলেছেন, আমরা সেগুলো সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেব। হাসপাতাল দালালমুক্ত করতে চিকিৎসকসহ সবার কাছে সাহায্য চেয়েছি।