Image description

বাধা ও প্রশাসনের মৌখিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই সিনেমাটিক স্টাইলে ছদ্মবেশ ধারণ করে গভীর রাতে মাহফিলে উপস্থিত হলেন আলোচিত ইসলামী বক্তা মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে তাঁর এমন ব্যতিক্রমী উপস্থিতি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

গতকাল সোমবার (২ নভেম্বর) রাত ১১টায় নাসিরনগরের ইসাপুর সৈয়দ মঞ্জিল দরবার শরিফে পূর্বনির্ধারিত মাহফিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে কয়েকজন কওমিপন্থী আলেমের আপত্তির পর সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন তাঁকে মাহফিলে না আসার পরামর্শ দেয় বলে জানা গেছে।

এরপর রাত আড়াইটার দিকে মুখে কাপড় ও মাথায় সবুজ পাগড়ি জড়িয়ে মোটরসাইকেলের পেছনে চড়ে মাহফিলে উপস্থিত হন তাহেরী। এ সময় তাঁর সঙ্গে মোটরসাইকেলের একটি বহরও ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ছদ্মবেশে মোটরসাইকেলে করে মাহফিলের উদ্দেশে যাচ্ছেন তিনি।

পরে মাহফিলে ওয়াজ করেন তাহেরী। সেখানে এটিকে ওই এলাকায় তাঁর দ্বিতীয় ওয়াজ ছিল। মাহফিল শেষে বিভিন্ন সড়ক ব্যবহার করে স্থান ত্যাগ করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে নিজের ফেসবুক আইডিতে পুরো ঘটনার ভিডিও প্রকাশ করেন।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুল ইসলাম বলেন, কয়েকজন কওমিপন্থী আলেম মৌখিকভাবে মাহফিল বন্ধের বিষয়ে তাঁদের জানিয়েছিলেন। সম্ভাব্য গোলযোগ এড়াতে তাহেরীকে আসতে নিষেধ করা হয়েছিল। পরে তাঁরা শুনেছেন, তিনি এসে মাহফিল করেছেন। সারারাত এসব বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। তবে মাহফিল আয়োজনে পুলিশের কোনো বাধা নেই।

প্রেসক্লাব নেতা ফরাশ উদ্দিন বলেন, একজন বক্তা মাহফিল করবেন, এতে বাধা থাকার কথা নয়। কারও দ্বিমত থাকলে মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসন ও ইসলামী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে তা নিরসন করা যেতে পারে। সংঘাত বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে তা ইসলামের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। আলোচনার মাধ্যমেই মতবিরোধের সমাধান হওয়া উচিত।

অন্যদিকে মাহফিলের আয়োজকরা বলেন, মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরীকে কোনোভাবেই দমিয়ে রাখা যাবে না। সত্য, ন্যায় ও নবীপ্রেমের বার্তা প্রচারে বাধা দেওয়া উচিত নয়। বিরোধিতার পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর করার আহ্বান জানান তাঁরা।

এদিকে ছদ্মবেশে তাহেরীর মাহফিলে যোগ দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।