
সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে ৭০% অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
বুধবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে ডেভেলপমেন্ট জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ (ডিজেএফবি) আয়োজিত একক আলোচনায় তিনি বলেন, “প্রত্যেকটা প্রকল্পের ব্যয় ৭০% বেশি হয়েছে। ই যে ৭০% বেশি ব্যয়, এর মূল হচ্ছে কাউকে চুরির একটি বন্দোবস্ত করে দেওয়া। আপনি যদি গ্রামে একটি প্রকল্প নেন, তাহলে সেখানে যাতে আপনার রাজনৈতিক অপারেটররা সুবিধা পায়, তাদেরকে খুশি করার চেষ্টা করা ।”
তিনি আরও বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে, তখন দেশের ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও ছিল মাত্র ৭.৩%। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “পৃথিবীর কয়টা দেশে ট্যাক্স-জিডিপি এত কম? যারা প্রকৃতপক্ষে ব্যর্থ অর্থনীতি হিসেবে চিহ্নিত, শুধু সেসব দেশেই এমনটা দেখা যায়। অথচ উন্নত ও বিকাশমান অর্থনীতির দেশে এই হার ১২-২০% পর্যন্ত হয়ে থাকে।”
শফিকুল আলমের দাবি, প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “আওয়ামী লীগের এক নেত্রীর ব্যাংক একাউন্টে ২০০০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। ভাবতে পারেন? উনি তো কোনো বড় শিল্পপতি নন! তাহলে এত টাকা এলো কোথা থেকে?”
তিনি আরও বলেন, “আমরা কি সত্যিই বিশ্লেষণ করে দেখেছি যে কর্ণফুলী নদীর তীরের এই টানেলটা প্রয়োজন ছিল? এখন দেখা যাচ্ছে, সার্ভিসিং খরচই উঠানো যাচ্ছে না, কারণ ওই পাড়ে অর্থনৈতিক কার্যক্রম গড়ে ওঠেনি।”
শফিকুল আলম বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “এখানে তো স্টেট স্পন্সরড ডাকাতির বন্দোবস্ত করা হয়েছিল!” তিনি জানান, এখন নতুন নিয়ম চালু করা হচ্ছে, ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো পে’, অর্থাৎ যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার হবে, শুধু তারই টাকা পরিশোধ করতে হবে।
তিনি জানান, ভূমি মন্ত্রণালয়ে এমন ব্যবস্থা আনা হচ্ছে, যাতে জমি-জমা সংক্রান্ত কাজে আর অফিসে যেতে না হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।