Image description

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সই হওয়া গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১২ ডিসেম্বর। চুক্তিটি নবায়নে উচ্চ পর্যায়ের একটি কারিগরি কমিটি গঠনসহ ভারতের সঙ্গে আলোচনায় নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। তবে এ বিষয়ে এখনো ভারতের পক্ষ থেকে সাড়া মেলেনি। এ অবস্থায় ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে গঙ্গা চুক্তির নবায়ন নিয়ে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা।

 

বাংলাদেশের আন্তসীমান্ত নদীগুলো দিয়ে আসা পানির প্রায় ৩১ শতাংশ আসে গঙ্গা নদী থেকে। বাংলাদেশে নদীটি পদ্মা নামে পরিচিত। ১৯৯৬ সালে গঙ্গার পানিবণ্টন নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি একটি চুক্তি সই হয়। ডিসেম্বরে চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

 

চুক্তি নবায়নের লক্ষ্যে চলতি বছরের এপ্রিলে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কারিগরি কমিটি গঠন করে সরকার। কমিটির প্রধান করা হয় প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরকে।

 

কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, পানিসম্পদ সচিব এ কে এম শাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশবিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগের মহাপরিচালক আতাউর রহমান প্রমুখ।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়ন নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর জন্য গত ৮ জুন ভারতের কাছে চিঠি পাঠায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই চিঠিতে বাংলাদেশের গঠিত কারিগরি কমিটির উদ্দেশ্য ও সদস্যদের পরিচয় তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে ভারতের পক্ষ থেকেও এ ধরনের একটি উচ্চপর্যায়ের কারিগরি কমিটি গঠনের আহ্বান জানানো হয়। দুই দেশের কমিটির মাধ্যমে চুক্তি নবায়ন-সংক্রান্ত কার্যক্রম সমন্বয় করাই ছিল এর উদ্দেশ্য।

 

তবে এ বিষয়ে এখনো ভারতের পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। ফলে ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে চুক্তি নবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

 

কমিটির প্রধান ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এ বিষয়ে স্ট্রিমকে বলেন, ‘বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চুক্তি নবায়নের জন্য কারিগরি, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আমরা চুক্তি নবায়নের দায়িত্বসম্পন্ন উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটির সদস্যদের নামের তালিকা পাঠিয়েছি এবং তাদের কাছ থেকেও এমন একটি কমিটির নামের তালিকা আহ্বান করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা কোনো ধরনের সাড়া দেয়নি। এ কারণে ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে চুক্তি নবায়নের বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে’।

 

ঐতিহাসিকভাবেই গঙ্গাসহ ভারতের সঙ্গে অভিন্ন ৫৪ নদীর পানিবণ্টন সংক্রান্ত যাবতীয় আলোচনার দায়িত্ব পালন করে আসছে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি)। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর এখন পর্যন্ত জেআরসির দুটি নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। কমিশনের ৮৯তম বৈঠকটি ৮ এপ্রিল ঢাকায় এবং ৯০তম বৈঠকটি ২২ মে কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয়। যদিও জেআরসির আওতাভুক্ত কারিগরি কমিটির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এখনও হয়নি।

 

এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য হলো গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়ন-সংক্রান্ত বিষয়গুলো জেআরসির মাধ্যমেই সমাধান করা হবে। তবে আগামী ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে চুক্তি নবায়ন সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে জেআরসিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ও সেন্টার ফর সায়েন্স, টেকনোলজি, পলিসি অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসির (সিএসটিপিডি) নির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা এ খান বলেন, পানিবণ্টন চুক্তি মূলত রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করে। ১৯৭৭ ও ১৯৯৬ সালের চুক্তিগুলোও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হয়েছিল। তাঁর মতে, গঙ্গা চুক্তির নবায়নও শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।