হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর তারেক মিয়া (২২) নামে এক রাজমিস্ত্রির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে লাখাই উপজেলার ফুলবাড়িয়া এলাকায় ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তারেকের বন্ধু শাহেল মিয়াকে (২৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত তারেক মিয়া (২২) নবীগঞ্জ উপজেলার চৌশতপুর গ্রামের মহব্বত উল্লাহর ছেলে। অভিযুক্ত শাহেলও একই গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ অক্টোবর রাজমিস্ত্রির কাজ করতে তারেক ও শাহেল লাখাই উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামে সুরের রহমানের বাড়িতে যান। সেখানে কাজ করার সময় তারেকের ব্যবহৃত আইফোন-এর প্রতি শাহেলের লোভ হয়। ২২ অক্টোবর কাজ শেষে রাতে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে তারেককে ডেকে নিয়ে যান শাহেল। পরে ফুলবাড়িয়া এলাকার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে তাকে গলা কেটে হত্যা করে মরদেহটি পাশের একটি ডোবায় ফেলে রাখেন।
তারেক বাড়িতে না ফেরায় তাঁর পরিবার শাহেলের কাছে খোঁজ জানতে চায়। তবে সন্তোষজনক উত্তর না পেয়ে তারেকের বাবা মহব্বত উল্লাহ ২৪ অক্টোবর নবীগঞ্জ থানায় জিডি করেন। পুলিশ জানায়, প্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার বিকেলে শাহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নবীগঞ্জ ও লাখাই থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
তারেকের বাবা মহব্বত উল্লাহ বলেন, তারা দুজন একসঙ্গে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। এভাবে তার ছেলেকে হত্যা করা হবে, তা তিনি ভাবতেও পারেননি। তারেকের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়ার পর তার সন্দেহ হয় বলে জানান তিনি।
নবীগঞ্জ থানার ওসি আবুল হোসেন বলেন, জিডি পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। সন্দেহের ভিত্তিতে শাহেলকে আটক করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তারেকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।