Image description

পুলিশের নিয়োগ ও পদোন্নতি ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে সাংগঠনিক কাঠামো সংস্কার কমিটি। প্রস্তাব অনুযায়ী, সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ও কনস্টেবল– এ দুই পদে নিয়োগ হবে। বন্ধ হবে উপপরিদর্শক (এসআই) ও সার্জেন্ট পদে সরাসরি নিয়োগ। এএসপি পদের ৫০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগ ও ৫০ শতাংশ বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের চিন্তা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ১০ বছরে প্রায় ৭৮ হাজার নতুন পদ সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে।

পুলিশ সদরদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত জুন মাসে বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কর্মকৌশল নির্ধারণে ‘সাংগঠনিক কাঠামো সংস্কার’ বিষয়ক কমিটি গঠন করা হয়। হাইওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদকে প্রধান করে একটি উপকমিটি গঠন করা হয়। এই উপকমিটি গত চার মাসে একাধিক সভা করে সুপারিশমালা তৈরি করেছে। পুলিশ সদরদপ্তরের পলিসি গ্রুপে এসব সুপারিশ চূড়ান্ত হওয়ার পর মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পুলিশে জবাবদিহির ঘাটতি রয়েছে। পুলিশ কতটা জনবান্ধব– তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। পাশাপাশি পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, তদন্ত কার্যক্রমে গতিশীলতা, অধস্তনদের কাজের তদারকি জোরদার, থানার আওতাধীন এলাকায় সার্বক্ষণিক টহল ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জনগণকে সহজে পুলিশি সেবা দেওয়া এবং কার্যক্রমে জবাবদিহি বাড়ানো সুপারিশের মূল লক্ষ্য। 

বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ও সাংগঠনিক কাঠামো সংস্কার উপকমিটির প্রধান ফারুক আহমেদ সমকালকে বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা যেই কাঠামো, তা পুলিশের গুণগত পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারছে না। তাই পুলিশের গুণগত পরিবর্তনের জন্য কিছু কাঠামোগত সংস্কার দরকার। সংখ্যাগত পরিবর্তনের চেয়ে গুণগত পরিবর্তন বেশি প্রয়োজন।

কাঠামো পুনর্বিন্যাস ও নিয়োগ ব্যবস্থার সংস্কার
পুলিশে এএসপি ও কনস্টেবল– এ দুই পদে নিয়োগ চালু এবং এসআই ও সার্জেন্ট পদে সরাসরি নিয়োগ বন্ধের সুপারিশ করেছে কমিটি। এ জন্য পিআরবি, বিসিএস নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৮১সহ সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। 

এএসপি পদের ৫০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগ ও ৫০ শতাংশ বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ এবং ডিআইজি ও তদূর্ধ্ব পদের সমসংখ্যক এএসপি পদে সরাসরি নিয়োগের জন্য বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচ নির্ধারণের সুপারিশ রয়েছে। এ ছাড়া কনস্টেবলের ৫০ শতাংশ পদ নায়েক, নায়েকের ১০০ শতাংশ পদ এএসআই, এএসআইর ১০০ শতাংশ পদ এসআই এবং এসআইর ২৫ শতাংশ পদ পরিদর্শক পদে পদোন্নতির জন্য নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
দেশের ৬৩৯টি থানাকে এ, বি, সি, ডি, ই— পাঁচ শ্রেণিতে ভাগ করে থানার সংখ্যা, নাম ও ন্যূনতম জনবল নির্ধারণ এবং ওসি হিসেবে এএসপি পদ সৃষ্টির সুপারিশ করা হয়েছে। ১০০ জনের বেশি সদস্যের থানায় বাবুর্চি ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদ রাখার প্রস্তাব রয়েছে।

জেলা পুলিশ লাইন্সকে এ, বি, সি, ডি শ্রেণিতে ভাগ করে জনবল ৩০০ থেকে ১২০০ নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। থানার ওসি, পরিদর্শক (তদন্ত) ও পরিদর্শক (অপারেশন)-এর জন্য আলাদা গাড়ি, টহল কাজের জন্য তিন থেকে পাঁচটি পিকআপ এবং মাঠ পর্যায়ের এএসআই, এসআই ও পরিদর্শকদের মোটরসাইকেল দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। 

দুই ধাপে নিয়োগ
পুলিশে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হয় কনস্টেবল পদে। অথচ তাদের পদোন্নতির সুযোগ সীমিত। অন্যদিকে সার্জেন্ট, এসআই ও এএসপি পদে নিয়োগ ও পদোন্নতির ধারাবাহিকতায় নানা জটিলতা রয়েছে। একই ধরনের যোগ্যতা ও শিক্ষাগত পটভূমি থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন পদে কর্মরত সদস্যদের পদমর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধার পার্থক্য থেকে অসন্তোষ ও মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি নিরসনে কনস্টেবল ও এএসপি পদে নিয়োগ চালু করে মধ্যবর্তী পদগুলোতে পদোন্নতির মাধ্যমে জনবল পূরণের সুপারিশ করেছে কমিটি।

প্রস্তাবে এএসপি পদে সরাসরি নিয়োগ ও বিভাগীয় পদোন্নতির অনুপাত ৫০: ৫০ করার কথা বলা হয়েছে। কমিটির মতে, এতে নিম্নপদে কর্মরত যোগ্য পুলিশ সদস্যদের উচ্চপদে পদোন্নতির সুযোগ বাড়বে; বিভিন্ন বিসিএস ব্যাচের পদোন্নতিজট কমবে এবং সাংগঠনিক কাঠামোয় ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা সহজ হবে। পদোন্নতির সুযোগ বাড়লে সদস্যদের কর্মস্পৃহা ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, যা মাঠ পর্যায়ে পুলিশের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সহায়ক হবে।

১০ বছরে ৭৮ হাজার পদ সৃষ্টি ও পদায়ন
পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামো সংস্কার কমিটি আগামী ১০ বছরে প্রায় ৭৮ হাজার নতুন পদ সৃষ্টি ও পদায়নের সুপারিশ করেছে। এতে বাংলাদেশে প্রতি ৬৫৭ জনের বিপরীতে একজন পুলিশ সদস্য থাকবেন। থাইল্যান্ডে প্রতি ৩১১, মালয়েশিয়ায় ৩১৩, ভিয়েতনামে ৩৩৫ এবং নাইজেরিয়ায় ৬৪৮ জনের বিপরীতে একজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। 

পুলিশের পোশাকসামগ্রী ক্রয়, সংরক্ষণ ও বিতরণে বিদ্যমান সংকট দূর করতে কেন্দ্রীয় লজিস্টিকস ডিপো ও রায়ট গিয়ার্স স্থাপন, ইউএন লজিস্টিকস স্টোর গঠন, সফটওয়্যার উন্নয়ন, ই-কিটে নতুন সুবিধা সংযোজন, পোশাকের মানোন্নয়ন, প্রাপ্যতার গেজেট সংশোধন এবং প্রয়োজনীয় বাজেট ও জনবল নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

স্মার্ট পুলিশিং ও প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা বৃদ্ধি
অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ম্যানুয়াল পুলিশিংয়ের পরিবর্তে স্মার্ট পুলিশিং চালু, পর্যাপ্ত জনবল ও আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ এবং স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে। থানায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে সেবাগ্রহীতার সন্তুষ্টি যাচাই, মামলা গ্রহণ ও তদন্ত ডিজিটাল করা, আভিযানিক গাড়িতে জিপিএস ট্র্যাকিং, বডিওর্ন ক্যামেরা ও ডকিং স্টেশন স্থাপন, সার্ভার ও প্রশিক্ষিত জনবল নিশ্চিত এবং সোলার প্যানেল স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। জাতীয় মহাসড়কের এন-১ থেকে এন-৮ পর্যন্ত এআইভিত্তিক সিসিটিভি, থানাভিত্তিক ক্যামেরা ও সার্ভার স্থাপন, টহলযান ও মোটরসাইকেল বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সরবরাহের সুপারিশও করা হয়েছে। 

জরুরি পরিস্থিতি, দুর্যোগ মোকাবিলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও ভিআইপি নিরাপত্তায় দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম, সুরক্ষাসামগ্রী ও বিশেষায়িত যানবাহন আধুনিকায়ন এবং পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক মোটরযান, জলযান ও আকাশযান সংগ্রহের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বাড়িয়ে সাইবার অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলার ওপরেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

স্বল্পমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা
সুপারিশে বলা হয়েছে, এএসপি ও কনস্টেবল পদে নিয়োগ এবং এসআই ও সার্জেন্ট পদে নিয়োগ বন্ধ, ৬৩৯টি থানাকে এ, বি, সি, ডি, ই— পাঁচটি ক্যাটেগরিতে ভাগ করে প্রতিটি ক্যাটেগরির থানার সংখ্যা, নামের তালিকা ও ন্যূনতম জনবল নির্ধারণ করতে হবে। এর মধ্যে এ ক্যাটেগরির থানায় ১৫০, বি ক্যাটেগরিতে ১২০, সি ক্যাটেগরিতে ১০০, ডি ক্যাটেগরিতে ৮০ এবং ই ক্যাটেগরির থানায় ৬০ জনবল; সব ক্যাটেগরির থানায় ওসি হিসেবে এএসপি পদ সৃষ্টি ও পদায়ন এক বছরের মধ্যে সম্পন্নের সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১০০ জনের বেশি জনবলের থানায় দুজন বাবুর্চি, দুজন সহকারী বাবুর্চি ও দুজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদ সৃষ্টির সুপারিশ করা হয়েছে।

এএসপি পদের ৫০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগ এবং বাকি ৫০ শতাংশ বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ, ডিআইজি ও তদূর্ধ্ব পদের সমসংখ্যক এএসপি পদে সরাসরি নিয়োগের জন্য বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচ নির্ধারণ, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নে পিআরবি ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা, বিসিএস নিয়োগ রুলস, ১৯৮১সহ প্রয়োজনীয় আইন ও বিধি সংশোধনে স্বল্পমেয়াদি কর্মপরিকল্পনার সুপারিশ করা হয়েছে। এক বছর মেয়াদি এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সম্ভাব্য বাজেট ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা।

মধ্যমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা
থানার ওসির জন্য একটি, তদন্ত কাজের জন্য একটি এবং টহল কাজের জন্য ৩ থেকে ৫টি পিকআপ বরাদ্দের ব্যবস্থা। পর্যায়ক্রমে কনস্টেবল পদের ৫০ ভাগ নায়েক এবং নায়েকের ১০০ ভাগ এএসআই পদ সৃজন। এএসআই নিরস্ত্র ও সশস্ত্র পদের ১০০ ভাগ এসআই পদ সৃজন এবং এসআই পদের ২৫ ভাগ পরিদর্শক পদ সৃজন। ৬০ থেকে ১০০ জনবল হলে একজন বাবুর্চি, দুজন সহকারী বাবুর্চি ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর দুটি পদ নির্ধারণ এবং বিশেষায়িত ইউনিটে জনবল, যানবাহন ও সরঞ্জাম যুগোপযোগী করা। এক থেকে দুই বছরে এসব বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। এসব বাস্তবায়নে চার হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা সম্ভাব্য বাজেট ধরা হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা
দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনার মধ্যে জেলার পুলিশ লাইন্সের জনবলের ভিত্তিতে এ, বি, সি, ডি ক্যাটেগরি নির্ধারণ এবং সে অনুযায়ী ৩০০, ৪০০, ৫০০, ৭০০, ১০০০ এবং ১২০০ জনবল নির্ধারণ। বিশেষায়িত ইউনিটে জনবল, যানবাহন ও সরঞ্জাম যুগোপযোগী করা, সব তদন্তকেন্দ্র এবং ফাঁড়ির জনবল ৩০ জন নির্ধারণ। ৬০ জনের নিচে জনবল হলে একজন বাবুর্চি, একজন সহকারী বাবুর্চি ও দুজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদ নির্ধারণ। দুই থেকে পাঁচ বছরে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সম্ভাব্য বাজেট ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা।

পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) তথ্যমতে, ৪৫তম বিসিএসে ৮০ জন, ৪৬তম বিসিএসে ৭৯ জন এবং ৪৭তম বিসিএসে ১৫০ জনকে এএসপি পদে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এই তিন বিসিএসে সব প্রক্রিয়া শেষে সুপারিশপ্রাপ্ত মোট ৩০৯ জন।

পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্যমতে, এএসপি থেকে আইজিপি পর্যন্ত ৩ হাজার ১৬৮টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত পুলিশ সদস্য ২ হাজার ৬০৩ জন। এখনও শূন্য পদ রয়েছে ৫৬৫টি। এএসপি হিসেবে গেজেটের অপেক্ষায় থাকা ৩০৯ জন যুক্ত হলে আরও শূন্য থাকবে ২৫৬টি পদ।‎
‎
সুপারিশে যা বলা হয়েছে
বর্তমানে প্রচলিত তিন ধাপের সরাসরি নিয়োগ ব্যবস্থায় কনস্টেবল পদে নিয়োগ সবচেয়ে বেশি হলেও পদোন্নতির সুযোগ সবচেয়ে কম। এএসপি ও এসআই পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা একই হওয়ায় কর্মকর্তাদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। এ ছাড়া নায়েক পদের স্বল্পতা, এএসআই, এটিএসআই, এসআই, টিএসআই, সার্জেন্টসহ বিভিন্ন পদের ধারাবাহিকতায় পদোন্নতির জটিলতা এবং পরিদর্শকদের বিভিন্ন শাখার পদসংখ্যায় অসামঞ্জস্য রয়েছে। ফলে কোথাও পদ শূন্য থাকলেও যোগ্য লোকের অভাবে পদোন্নতি দেওয়া যায় না। আবার কোথাও অতিরিক্ত জনবলের কারণে একই পদে চাকরি শেষ করতে হয়।‎ ‎পুলিশের প্রায় ৯০ শতাংশ জনবল কনস্টেবল পদে নিয়োগপ্রাপ্ত।  এসআই বা সমমর্যাদার পদের ক্ষেত্রে এ হার ৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং এএসপি ও অন্যান্য পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের হার ১ দশমিক ১২ শতাংশ। বিপুলসংখ্যক কনস্টেবলের মর্যাদা, পদোন্নতি ও কল্যাণ নিশ্চিত করা ছাড়া পুলিশ সংস্কার পূর্ণাঙ্গ হবে না। 

বিশেষজ্ঞ মতামত‎‎‎
সাবেক আইজিপি নুরুল হুদা সমকালকে বলেন, পুলিশের কাঠামো সংস্কারের সুপারিশগুলো ভালো। এগুলো বাস্তবায়নের পর দেখা যাবে পুলিশে কতটুকু পরিবর্তন হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পুলিশে জনবল কাঠামো বাড়াতে হবে। যেই জনবল আছে, এটা দিয়ে চলে না। তবে কতটুকু করা যাবে এবং কতটুকু করার সামর্থ্য আছে, সেটা সরকারের ওপর নির্ভর করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, পুলিশে সংস্কার প্রয়োজন। অতীতেও এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তবে বাস্তবায়ন পর্যায়ে গিয়ে আটকে গেছে। এর বিশেষ কারণ পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে রাখা এবং পদোন্নতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করা। পুলিশকে জনবান্ধব ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা সম্ভব হলে প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।