Image description

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা। এ সময় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা লুটের যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার মধ্যরাতে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, মেয়ের ওপর নির্যাতনের বিচার চাইতে তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন, কোনো ধরনের মব সৃষ্টি করতে নয়।

সেখানে প্রায় ২০০ জন লোক উপস্থিত থাকলেও তাকেই কেন মারধরের শিকার হতে হলো, এই প্রশ্নের জবাব চান মাদ্রাসাছাত্রীর বাবা।

মাদ্রাসায় ভাঙচুরের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, সেখানে একটি কাচের গ্লাস ভেঙেছিল এবং এর ক্ষতিপূরণ দিতে তিনি প্রস্তুত। তবে তার দাবি, কোনো শিক্ষক আসার আগেই গ্লাসটি ভেঙেছিল এবং এ-সংক্রান্ত ভিডিও রেকর্ডও তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

 

 

মাদ্রাসা থেকে ১৭ লাখ টাকা চুরির অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি সিসিটিভি ফুটেজ যাচাইয়ের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মাদ্রাসায় এত বিপুল পরিমাণ টাকা কীভাবে সংরক্ষিত ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

 

ভুক্তভোগী শিশুর বাবার অভিযোগ, ঘটনার তিন দিন আগেই মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। কিন্তু তার অভিযোগ অনুযায়ী, অধ্যক্ষ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি; বরং বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।

শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ তুলে তিনি জানান, নিপীড়নের ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি বাসায় গিয়ে কাউকে কিছু না বলার জন্য তার মেয়েকে হুমকি দিয়েছিলেন। এ কারণে ভয়ে শিশুটি প্রথমে বিষয়টি প্রকাশ করতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি।

নিজের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার বিষয়ে রুমি মন্তব্য করেন, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইনগতভাবে অপরাধী সাব্যস্ত হলে শাস্তি মেনে নেবেন। তবে তার মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনারও নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন, তিনি কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা আলেম সমাজের বিরুদ্ধে নন। বরং ধর্মীয় পরিচয়ের আড়ালে কেউ অপরাধ করে থাকলে এবং সেই অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করলে, তিনি তার বিরুদ্ধে কথা বলছেন।

 

গতকাল বিকালে একই ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে মাদ্রাসা ছাত্রের বাবা গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

 

গত বুধবার টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার করিওল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে সাত বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ভাইস প্রিন্সিপাল মুসলেউদ্দিনকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় তাকে মারধর করা হয়। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

শিশুটির পরিবারের বরাত দিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন জানান, গত তিন দিন ধরে প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে অনীহা প্রকাশ করছিল। এর কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে ভয়ে কিছু বলেনি। পরে মা-বাবার জিজ্ঞাসাবাদে মাদ্রাসার শিক্ষক মুসলেউদ্দিনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করে শিশুটি।

ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের ভাষ্য, মেয়ের কাছে ঘটনা শোনার পর বুধবার দুপুরে তার বাবা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে জবাব চান। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা ওই শিক্ষককে মারধর করেন। খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।

গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই শিক্ষককে মারধরের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

মাদ্রাসায় প্রবেশ, শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর এবং ক্যাশ ড্রয়ার থেকে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন।