মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৭ ডলার ছাড়িয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম গত এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। শিগগিরই ইরান যুদ্ধের অবসান হচ্ছে না- এমন আশঙ্কায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ বাড়ছে।
গত এক সপ্তাহে প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে শুক্রবার ১১৭ ডলার ছাড়িয়ে যায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর থেকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ। যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ দামের কাছাকাছি রয়েছে এখন জ্বালানি তেল। একই দিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও ব্যারেলপ্রতি ১০২ ডলার ছাড়িয়ে যায়। যুদ্ধ শুরুর পর ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ৫০ শতাংশের বেশি।
তেলের দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি ব্যয়ও বেড়েছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দেশটিতে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৪ ডলার ২৯ সেন্টে। মে মাসে দাম সর্বোচ্চ ৪ ডলার ৫৫ সেন্টে উঠেছিল। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পেট্রলের দাম বেড়েছে ৪০ শতাংশের বেশি। একই দিন ডিজেলের দামও বেড়ে প্রতি গ্যালন ৬ ডলার ৩১ সেন্ট হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে ডিজেলের দাম সর্বোচ্চ ৬ ডলার ৫১ সেন্টে উঠেছিল।
তেলের দাম দীর্ঘসময় চড়া থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। শুক্রবারের ভবিষ্যৎ চুক্তির দর অনুযায়ী, আগামী বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরেই থাকার ইঙ্গিত মিলছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা তেলের বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। জার্মানির ডয়েচে ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি পরিবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে অঞ্চলটি থেকে তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমেছে। সেপ্টেম্বরে সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও চলতি মাসে তা আবার কমে গেছে।
তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও। শুক্রবার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক কমেছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। এর আগের দিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রির চাপেও সূচকটি কমেছিল।
চলমান ঘটনাপ্রবাহের পরবর্তী অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ইরানে নতুন করে হামলার পরিকল্পনার খবর সামনে এসেছে। ফলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়া এবং তেলের দাম আরও বেশি সময় ধরে চড়া থাকার আশঙ্কা করছেন জ্বালানি বাজার বিশেষজ্ঞরা।