‘পেনশন নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবেন না’—পুলিশের এক কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এমন মন্তব্য করেছেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আহ্বায়ক আতাউস সামাদ বাবু। তার এ স্ট্যাটাস ঘিরে স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
তার এ বক্তব্যকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা।
গতকাল শুক্রবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে আতাউস সামাদ দাবি করেন, তাকে গ্রেপ্তারের জন্য এএসআই দেলোয়ার হোসেন তার বাড়িতে গিয়েছিলেন। তবে সেসময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। পরে ছাত্রলীগ নেতা সিরাজ গ্রেপ্তার হয়েছেন বলেও স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন তিনি।
স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘দেলোয়ার সাহেবদের নাম-ঠিকানা আমরা রাখছি, কারণ তারাও পেনশন নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবে না ইনশাআল্লাহ।’ রাজনীতি করতে গিয়ে কয়েকবার কারাগারে যেতে হয়েছে বলে উল্লেখ করেন আতাউস সামাদ।
আতাউস সামাদের এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন এএসআই দেলোয়ার। তিনি বলেছেন, ‘ফেসবুকে এভাবে তিনি আমার নামে যে ভিত্তিহীন কথা লিখেছেন, তার কোনো অস্তিত্ব নেই।’
তিনি বলেছেন, ‘আমি মাদকসংক্রান্ত একটি তদন্তে তার গ্রামের পাশে গিয়েছিলাম। সেটাকে কেন্দ্র করে তিনি ফেসবুকে যে লেখালেখি করেছেন, তা নিতান্তই বোকামি। নিজ দায়িত্ব ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার বাইরে ব্যক্তিগতভাবে আমাদের কিছু করার সুযোগ নেই।’
মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা বললেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে দেখব।’
এএসআই দেলোয়ার মাধবপুর থানার আওতাধীন কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়িতে দায়িত্ব পালন করছেন।
আতাউস সামাদ উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক। এর আগে তিনি চৌমুহনী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবেও তার নাম আলোচনায় আসে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার বিষয়েও তাকে ঘিরে আলোচনা ছিল।
ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের মুক্তির দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি করেও তিনি আলোচনায় এসেছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান।
এ ব্যাপারে আতাউস সামাদের মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।