Image description

চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় পান-সিগারেটের দোকানে চুরির চেষ্টার অভিযোগে মো. ইমন (২১) নামের এক যুবককে আটক করে মারধর করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে তাকে মারধর করা হয়। পরদিন বুধবার দুপুর ১২টার দিকে বাকলিয়ার কল্পলোক আবাসিক এলাকার ২ নম্বর সড়কের ৫ নম্বর ব্রিজের নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টেবর) দুপুরে বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ওসি জানান, মামলার করার পরপরই এ ঘটনায় জড়িত চার জনকে গ্রেফতার করা হয়। নিহত ইমন বাকলিয়ার কালামিয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা। তাকে হত্যার ঘটনায় তার ফুফু রেহানা বেগম বাদী হয়ে পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- আব্দুর রহমান জিসান (২১), ইয়াছিন আরাফাত (২৩), মো. হাসান (৩৩) ও মো. মিজানুর রহমান (২৭)। তারা বাকলিয়ার বাসিন্দা। ইমনের মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গভীর রাতে কয়েকজন ইমনের হাত পেছনে দড়ি দিয়ে বেঁধে তাকে নিয়ে যাচ্ছেন। তাদের দুজনের পরনে নিরাপত্তাকর্মীর পোশাক এবং হাতে লাঠি দেখা যায়। দূর থেকে তোলা আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি মাটিতে ফেলে ইমনকে লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছেন। পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন আরও পাঁচ জন। পরে তাকে মারধর করা হয়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, দোকানের ভেতরে ইমনকে আটক করার পর মিজানুর রহমান ওই এলাকায় রাতের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মী ও অন্য আসামিদের বিষয়টি জানান। পরে আসামিরা লাঠিসোঁটা দিয়ে ইমনকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে কল্পলোক মডেল মসজিদের দক্ষিণে সাজেদা ফাউন্ডেশনের পাশে একটি খালি মাঠে নিয়ে আবারও মারধর করা হয়। এতে ইমন গুরুতর আহত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে ওই আবাসিক এলাকার ২ নম্বর সড়কের মুখে একটি সেতুর নিচে ইমনকে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। পরদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রেহানা বেগম ও তার ছেলে মো. সবুজ ঘটনাস্থলে গিয়ে ইমনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে বাকলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ইমনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

 

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম বলেন, ‌‘একটি পান-সিগারেটের দোকানে চুরির চেষ্টার অভিযোগে ইমনকে আটকে মারধর করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয়েছে। এরপর অভিযান চালিয়ে চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।’