Image description

ওমরাহ পালন শেষে পাবনার ঈশ্বরদীর ৫০ ওমরাহযাত্রী সৌদি বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন। মঙ্গলবার তাদের দেশে ফেরার কথা থাকলেও সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় সেখানে আটকা পড়েছেন তারা।

এদিকে, মক্কার হোটেলে থাকার নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ায় দেখা দিয়েছে আবাসনসংকট। থাকা-খাওয়ার অনিশ্চয়তার পাশাপাশি তাদের কয়েকজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

আটকে পড়া যাত্রীদের মধ্যে নারী-পুরুষের পাশাপাশি কয়েকজন শিশুও রয়েছে। এ ছাড়া ৭০ থেকে ৮০ বছর বয়সী প্রবীণ ব্যক্তিরাও আছেন। কবে দেশে ফিরতে পারবেন, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাদের।

এদিকে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশের সৌদিগামী সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে ৮৬টি ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এতে প্রায় ১৩ হাজার যাত্রী ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৩২টি সরাসরি এবং ৫০টি ট্রানজিট ফ্লাইট। এসব ফ্লাইটের যাত্রীসংখ্যা ১৩ হাজার ৭১ জন।

 

বেবিচক জানায়, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোর ফ্লাইটের সময়সূচি পুনর্নির্ধারণে কাজ করছে সংস্থাটি। অন্যদিকে, যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদগামী সব ফ্লাইট আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

সৌদি আরবে অবস্থানরত ঈশ্বরদীর মোয়াল্লেম মোহাম্মদ আবু রায়হান জানান, ওমরাহ পালন শেষে মঙ্গলবার ৫০ জনের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর কার্যক্রম স্থগিত হওয়ায় তারা আটকা পড়েছেন। হোটেলে থাকার নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে থাকার জায়গা খুঁজতে হচ্ছে।

ঈশ্বরদী পৌর এলাকার সাঁড়াগোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা সাগর সরদার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ওমরাহ পালন করতে গেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি, আমার মা, স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে ওমরাহ পালন করতে এসেছি। দেশে ফেরার প্রস্তুতি নেওয়ার আগেই বিমানবন্দরে হামলার কারণে পরিস্থিতি ওলটপালট হয়ে গেছে। থাকা-খাওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। মহাবিপদে পড়েছি।’

ওমরাহযাত্রী ইসমাইল হোসেন বলেন, ৫০ জনের মধ্যে বেশ কয়েকজন প্রবীণ নারী-পুরুষ রয়েছেন। তাদের কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় নতুন করে থাকার ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কবে দেশে ফিরতে পারবেন, তাও বুঝতে পারছেন না তারা।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, সৌদি আরবে ওমরাহ পালন করতে গিয়ে আটকে পড়াদের বিষয়ে পাবনা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে খোঁজখবর রাখছি। আশা করছি, সংকট কেটে যাবে।