Image description

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের (এফবিএস) সামনের সড়কে গাড়ির ধাক্কায় সাত শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থীর পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে। এ ছাড়া তার মাথায়ও আঘাত রয়েছে।

 

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, গাড়িটি প্রথমে ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ইসলাম তাহিয়াকে ধাক্কা দেয়। পরে আরও ছয় শিক্ষার্থী গাড়ির ধাক্কায় আহত হন। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের ছেলে সাদমান সাকিব। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির (আইআইটি) ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। সাদমানের দাবি, গাড়ি চালানোর সময় আতঙ্কিত হয়ে ব্রেকের পরিবর্তে অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দেওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, মুহূর্তের মধ্যেই ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ বদলে যায় আতঙ্কে। গাড়ির ধাক্কায় কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিটকে পড়েন। তাঁদের মধ্যে তাহিয়ার আঘাত ছিল সবচেয়ে গুরুতর। তাঁর পায়ে গুরুতর জখম হয় এবং মাথায়ও আঘাত লাগে। মুখ দিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল বলে জানান মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী মুসফিকুল ইসলাম। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অন্য আহত শিক্ষার্থীদেরও দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

 

দুর্ঘটনার পর উপস্থিত শিক্ষার্থীরা গাড়িচালক সাদমান সাকিবকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বাদী হয়ে মামলা করার দাবি জানিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবি, ক্যাম্পাসের ভেতরে এমন দুর্ঘটনার দায় নির্ধারণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

‘ব্রেক নিতে গিয়ে অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দিই’

দুর্ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করে সাদমান সাকিব ‘আমার দেশ’-কে বলেন, ‘আমি আগে তেমন গাড়ি চালাইনি। আজকে শখের বসে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিলাম। সঙ্গে ড্রাইভারও ছিল। চালাতে চালাতে আমি কলা ভবনে একটা রাউন্ড দিয়ে আসি। ওই মুহূর্তে বেশি মানুষ দেখে আমি ভয় পেয়ে যাই। এফবিএসের সামনে এসে ব্রেক নিতে গিয়ে আমি অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দিয়ে দিই।

 

তিনি আরও বলেন,সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি দ্রুতগতিতে ছুটতে থাকে। সামনে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে প্রথমে গাড়ি ধাক্কা দেয়। পরে ড্রাইভারের সহায়তায় গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

 

তবে দুর্ঘটনার আগেও গাড়িটির চলাচল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিনহা মল্লিক। তাঁর ভাষ্য, গাড়িটি একাধিকবার সড়কে ঘোরাঘুরি করছিল এবং চলার সময় সামনে থাকা রিকশা ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জোরে হর্ন দিচ্ছিল।

 

সিনহা মল্লিক বলেন, আমি আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে স্যাডো থেকে সাইকেল নিয়ে এফবিএস রোডে উঠতেই গাড়িটি আমাকে অস্বাভাবিকভাবে ওভারটেক করে এফবিএসের দিকে যায়। সামনে যত রিকশা বা শিক্ষার্থী আসছিল, তাদের উদ্দেশে অনেক জোরে হর্ন দিচ্ছিল। সম্ভবত সেবার দুর্ঘটনাটি ঘটেনি। পরবর্তী চক্করে ঘটেছে।

 

আহতদের চিকিৎসা, মামলা নিয়ে প্রশাসনের আশ্বাস

আহত সাত শিক্ষার্থীর মধ্যে ছয়জন মার্কেটিং বিভাগের ৩২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তাঁদের হাত, পা, হাঁটু ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লেগেছে। অন্য আহত শিক্ষার্থী ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের জান্নাতুল ইসলাম তাহিয়া। তাঁর পায়ের আঘাতের মাত্রা এবং হাড় ভেঙেছে কি না, তা চিকিৎসকদের পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

 

হাসপাতালে নেওয়ার পর আহতদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে একজন আতঙ্কিত হয়ে পড়লে তাঁকে অক্সিজেন দেওয়া হয়। অন্যদের ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ করা হয়। আহতদের চিকিৎসার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঘটনায় আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তাঁদের সহপাঠীরা।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. ইসরাফিল রতন বলেন, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে তাঁদের জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।

মানচিত্রদেখুন

 

 

এদিকে দুর্ঘটনার পর প্রক্টর কার্যালয়ে উপস্থিত বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বাদী হয়ে মামলা করার আহ্বান জানান। এ দাবির পক্ষে তারা লিখিত আবেদন তৈরি করে শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. শান্টু বড়ুয়া বলেন, আহত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে শাহবাগ থানায় মামলা করার জন্য লিখিতভাবে আমাদের কাছে দাবি জানানো হয়েছে। প্রক্টর অফিসও এ বিষয়ে ইতিবাচক।

 

তিনি আরও বলেন, প্রক্টর অফিসের উদ্যোগে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদী হয়ে মামলা করবে বলে আমরা শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করছি।

 

এ বিষয়ে গণিত বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেবে, আমি তা মেনে নেব।