Image description

আইন পেশাকে ব্যবহার করে অনৈতিকভাবে অর্থ উপার্জন ও প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেছেন, পেশাগত পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘এজিও–ইউএনডিপি ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম’-এর দ্বিতীয় ব্যাচের সমাপনী ও তৃতীয় ব্যাচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আইন পেশা কেবল জীবিকা অর্জনের মাধ্যম নয়; ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করাও আইনজীবীদের দায়িত্ব।

মক্কেলের স্বার্থ রক্ষার নামে মিথ্যা তথ্য দেওয়া, আদালতকে বিভ্রান্ত করা কিংবা বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করা গ্রহণযোগ্য নয়। সততা, দক্ষতা ও নৈতিকতাই একজন আইনজীবীর প্রকৃত মর্যাদা নির্ধারণ করে।

তিনি জানান, গত মাসে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের ১৬০ জন আইন কর্মকর্তাকে ইউএনডিপি ও জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তরের (ইউএনওডিসি) উদ্যোগে পেশাগত নৈতিকতার ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

আইনজীবীদের আচরণ সম্পর্কে তিনি বলেন, বিচারক, সহকর্মী, প্রতিপক্ষের আইনজীবী ও মক্কেলের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।

মতপার্থক্য ও যুক্তিতর্ক থাকলেও ব্যক্তিগত আক্রমণ, অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ নেই।

তরুণ আইনজীবীদের উদ্দেশে রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আইনের জ্ঞানের পাশাপাশি সততা, শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও মানবিক মূল্যবোধ অর্জন করতে হবে। মক্কেলের গোপনীয়তা রক্ষা এবং পেশাগত নীতি মেনে চলাও জরুরি। তাঁর ভাষায়, আইনের জ্ঞান আইনজীবীকে দক্ষ করে, আর নৈতিকতা তাঁকে মর্যাদাবান করে।ইন্টার্নশিপ কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, তরুণদের বিচারব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ, আইনি গবেষণা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ধারণা এবং পেশাগত নৈতিকতা শেখার সুযোগ দিতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এবারের কর্মসূচিতে আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যুক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ঢাকার বাইরের বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও ইন্টার্ন নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, বিচারব্যবস্থার শক্তি শুধু আইন ও মামলা নিষ্পত্তির ওপর নির্ভর করে না; জনগণের আস্থা, ন্যায়বিচারে সমান সুযোগ এবং মানুষের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

শীর্ষনিউজ