Image description

সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘ অবকাশ বিচারব্যবস্থার গতি ও মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।

সোমবার (১২ অক্টোবর) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দীর্ঘ ছুটি পুনর্বিবেচনা করতে প্রধান বিচারপতির প্রতি আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ছুটির বাইরে সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব অতিরিক্ত ছুটির বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি প্রত্যাশা করব মাননীয় প্রধান বিচারপতি বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবেন। কারণ, রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত ছুটির বাইরে যে অতিরিক্ত ছুটি, সেগুলোও কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব ছুটি বলে পরিগণিত।’

ছুটি কমিয়ে বিচারকদের আরও বেশি কাজে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘ছুটি কমিয়ে বিচারকদের আরও বেশি কাজে সম্পৃক্ত করা গেলে অনিষ্পন্ন মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে মানুষের চাহিদা ও প্রয়োজন অনেকাংশে পূরণ হবে।’

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক থাকাকালে ছুটি কমিয়ে আনার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই দীর্ঘ অবকাশের কারণে আমাদের বিচারব্যবস্থায় শ্লথগতি আসছে এবং মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে না।’

দীর্ঘ অবকাশে বিচারপতিরা অসমাপ্ত রায় লিখে শেষ করবেন—এমন প্রত্যাশা থাকলেও তা পূরণ হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন রুহুল কুদ্দুস কাজল।

তিনি বলেন, ‘আমাদের অভিজ্ঞতা খুব সুখকর নয় যে লম্বা ছুটির মধ্যে অনেক বিচারপতিরা তাঁদের রায়, অসমাপ্ত রায় লিখবেন, এই প্রত্যাশার জায়গাটাও পূরণ হচ্ছে না। অনেকেই আছেন যারা এক মাসের মধ্যে একটি রায়ও লেখেননি। সেক্ষেত্রে তাঁরা ছুটি দিয়ে কী করবেন?’

বিচারপতিদের রায় লেখার বিষয়টি তাঁদের কাজের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করে জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘দীর্ঘ ছুটি পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে। আমার অবস্থান থেকে মনে করি যে এই একটা দীর্ঘ ছুটি বিচারব্যবস্থার গতি আনার ক্ষেত্রে একটা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। পাশাপাশি মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এটাও অনেক ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।’