সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় ঢাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার বিমানযাত্রী। শনিবার থেকে এসব যাত্রী অনিশ্চয়তার মধ্যদিয়ে সময় পার করছেন। অনেকেই নির্ধারিত ফ্লাইটে সৌদি যাওয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে বিমানবন্দরে এসেছেন। কিন্তু আসার পর থেকে অপেক্ষার সময় কাটাচ্ছেন। সঙ্গে আছে হতাশাও। কারণ অনেকেরই কর্মক্ষেত্রে যোগদান, ভিসার মেয়াদ, জরুরি কাজসহ নানা সমস্যা রয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে বিমানবন্দরে এমন হামলা শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটটি ফ্লাইট বাতিল করার খবর পাওয়া গেছে। এসব ফ্লাইটে তিন হাজার যাত্রীর সৌদি আরবে যাওয়ার কথা ছিল। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, সৌদিয়া, রিয়াদ এয়ার ও শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট।
বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, আকস্মিক ফ্লাইট বাতিল হওয়াতে নানা ধরনের সমস্যা ও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে যেমন ঢাকা থেকে কোনো যাত্রীরা সৌদি যেতে পারছেন না ঠিক তেমনি সেখান থেকেও যাত্রীরা আসতেও পারছেন না। পরিস্থিতি কবে ঠিক হয়ে ফ্লাইট স্বাভাবিক হবে সে বিষয়ে তারা কিছু জানতে পারছেন না। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বিমানবন্দরে আসা অনেক যাত্রী ফ্লাইট বাতিলের খবর পেয়ে বিপাকে পড়েছেন। কবে ফ্লাইট চালু হবে, টিকিটের তারিখ কীভাবে পরিবর্তন করবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় তারা। সময়মতো কর্মস্থলে ফিরতে না পারলে চাকরি হারানোর আশঙ্কার পাশাপাশি নতুন করে যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার খরচ নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেকে।
সিলেটের বাসিন্দা রিয়াদগামী যাত্রী সানোয়ার বলেন, রোববার আমার ফ্লাইট ছিল। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। কবে যেতে পারবো সেটা জানি না। সময়মতো না গেলে সমস্যায় পড়তে হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শরীফ উদ্দিন বলেন, সৌদি যাওয়ার জন্য ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের টিকিট কেটেছিলাম। মুম্বই হয়ে রিয়াদে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু এখন আর হলো না। অনিশ্চয়তার মধ্যদিয়ে সময় পার করছি। কিশোরগঞ্জ থেকে আসা যাত্রী হুমায়ুন আহমেদ অভিযোগ করেন, ফ্লাইট বাতিলের কারণে হাজার হাজার যাত্রী এখানে জড়ো হয়েছেন। একটা ঘিঞ্জি অবস্থা বিরাজ করছে। আসিফ আহমেদ নামের যাত্রী বলেন, এয়ারলাইন্সগুলো ভালো কো-অপারেটিভ করছে না। কি করবো না করবো কিচ্ছু জানাচ্ছে না। এমনকি থাকার ব্যবস্থাও নাই। বিমানবন্দরে পোস্টার টাঙিয়ে ফ্লাইট বন্ধের কথা জানানো হয়েছে। ফ্লাইট চালু হলে টিকিট কার্যকর করা হবে বলে জানিয়ে পোস্টারে দেয়া নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
আল আমিন নামের যাত্রী বলেন, মহাবিপদে পড়েছি। আমার মালিক কিছুদিন ধরে ফোন করছিল তাড়াতাড়ি যাওয়ার জন্য। কিন্তু যাওয়া হলো না। আমার বাড়ি বরিশালে, অনেক দূর। গাড়িতে যাতায়াতেও অনেক খরচ। এখানে বসে থাকলে তো অনেক সমস্যা। নোয়াখালী থেকে আসা যাত্রী আজাদ রহমান বলেন, নোয়াখালী থেকে এসেছি। এখন আবার নোয়াখালীতে ফিরে যেতে হলে যাওয়া-আসায় প্রায় ছয় থেকে সাত হাজার টাকা খরচ হবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে কাওরান বাজারের সোনারগাঁও হোটেলে অবস্থিত বিমানের অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। ফ্লাইট চালু হলে যোগাযোগ করে টিকিটের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে নতুন টিকিটের জন্য টাকা লাগবে না বলেও জানানো হয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ বলেন, সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলো ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের এ বিষয়ে অবহিত করছে। যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী যাত্রার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। তিনি বলেন, এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ও সহমর্মিতার সঙ্গে অপেক্ষা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সময়সীমা বাংলাদেশ সময় ১২ই অক্টোবর রাত ৩টা পর্যন্ত বর্ধিত করেছে। বিমানবন্দরটি পুনরায় চালুর বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১১ ও ১২ই অক্টোবর ঢাকা-রিয়াদ ও রিয়াদ-ঢাকা রুটের নির্ধারিত ইএ৩৩৯ ও ইএ৩৪০ ফ্লাইট দুটি স্থগিত করা হয়েছে। ফ্লাইট এবং সময়সূচি সম্পর্কে ১২ই অক্টোবর বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টায় সকলকে অবহিত করা হবে। বিমানবন্দর জানিয়েছে, ফ্লাইট স্থগিতের কারণে যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আন্তরিকভাবে দুঃখিত।