জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, নির্বাচন কমিশনকে আরও বেশি শক্ত হতে হবে। তাদের কথা ও কার্যক্রমে মনে হচ্ছে তাদের মেরুদণ্ড এখনো সোজা হয়নি। অবশ্যই নির্বাচন কমিশনকে মেরুদণ্ড সোজা করে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন অফিসে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠান শেষে ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচনি আচরণবিধি অমান্য করে প্রতীক বরাদ্দের আগের দিন বুধবার রাতে বিএনপি ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড স্থাপন করায় এর তীব্র নিন্দা জানান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনেও এ ধরনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা হয়েছে। বিষয়গুলো আমরা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছিলাম, কিন্তু তারা কোনো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেনি। এখানে যা হয়েছে, আমার মনে হয় সেটি সরকারি দলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্যই করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো মাগুরা মার্কা নির্বাচন দেখতে চাই না। এখানে কোনো অনিয়ম বা কারচুপি হলে জাতি সেটা মেনে নেবে না। নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং অন্যান্য যারা দায়িত্বে আছেন, তাদেরকে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
বৃহস্পতিবার প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠানে ১১ দলের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের হাতে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক তুলে দেন উপনির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন অফিসার কামরুল ইসলাম।
এ সময় পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জামায়াতের সাবেক ঠাকুরগাঁও জেলা আমির মাওলানা আব্দুল হাকিম, জেলা আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধান, সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলমগীর এবং প্রচার সম্পাদক শাহজালাল জুয়েলসহ অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে পাঁচটি রাজনৈতিক দল থেকে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা হলেন—জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), বিএনপির মির্জা ফয়সল আমিন (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলনের খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা), খেলাফত আন্দোলনের আব্দুল নিজামী (বটগাছ) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মোহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।