রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার ট্রাক চালক মো. হোসেন হত্যা মামলার শুনানিতে হেঁটে আদালতের ছয় তলায় উঠানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। একইসঙ্গে হাত সামনে রেখে হ্যান্ডকাফ পড়ানোর প্রার্থনা জানান তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলমের আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে এসব কথা বলেন। এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশ্য বললেন, আপনার থেকে আমার দূরত্ব বেশি দূরে নয়।
এদিন এই মামলায় কারাগারে থাকা ১০ আসামির মধ্যে পলকসহ আট আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাদেকে কাঠগড়ায় নেয়া হয়। এসময় বিচারকের অনুমতি নিয়ে পলক কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বলেছেন, মাননীয় আদালত এটা কি ধরনের সিস্টেম, লিফট চালু দেখলাম তারপরেও হাতকড়া পেছনে দিয়ে আমাকে ছয়তলা সিঁড়ি দিয়ে ওঠানো হয়েছে। আদালতের কাছে আমার অনুরোধ, মানবিক দিক বিবেচনায় রেখে হাতকড়া সামনে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।
তখন জবাবে বিচারক বলেন, এটা আপনাদের নিরাপত্তার জন্যই। তখন পলক বললেন, এটা আপনার অথোরিটি না, এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। হাতকড়া সামনের দিকে রাখলেই হয়। তবে এই মামলায় দুই আসামি হাজির না হওয়ায় অভিযোগ গঠন শুনানি হয়নি।
পরে পলককে লিফটে নিচে নামানো হয়। এসময় হাজতখানায় নেওয়ার পথে পলক সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, লিফট শুধু আমাদের জন্য নষ্ট থাকে।
জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ঢাকার মোহাম্মদপুরে মালবাহী ট্রাক চালক মো. হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হন সাজ্জাদ ও শাহিন নামে দুই ব্যক্তিও। হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় তার মোসা. রীনা বেগম ২০২৪ সালের ৩১ অগাস্ট ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে গত বছরের ২৩ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক মো. আকরামুজ্জামান ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
শেখ হাসিনা বাদে অপর আসামিরা হলেন- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান, আসিফ আহম্মেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান, নুর মোহাম্মদ সেন্টু, তোফায়েল সিদ্দিক ওরফে তুহিন, রহমান মিয়া ওরফে এ কে এম অহিদুর রহমান, পলাশ, ওলিউর রহমান, খলিলুর রহমান, ইমন, এস এম রিয়াজুল হক তামিম, মাসুদুর রহমান বিপ্লব, আব্দুস সাত্তার ভূইয়া ওরফে এম এ সাত্তার, পারভেজ ওরফে গোলডেন পারভেজ, সুমন মিয়া ওরফে কাইল্লা সুমন, মিলন হোসেন, সোহেল ওরফে ভূইয়া সোহেল ওরফে বুনিয়া সোহেল, সলিম উল্লাহ সলু, ইরফান, মুহাম্মদ বদিউল আলম ওরফে বদিউজ্জামান, ফুরকান হোসেন, শাহজাহান খান, সাজ্জাদ হোসেন, ফারুক হোসেন অভি, নাইমুল হাসান রাসেল।