ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদদৌলা।
এছাড়া আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন (লিভ টু আপিল) করেছেন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আরও তিন আসামি। তারা হলেন- সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, উম্মে সুলতানা পপি ও সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল ও লিভু টু আপিল দায়ের করা হয় বলে জানিয়েছেন আপিলকারীদের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
এ মামলার ডেথ রেফারেন্স, জেল আপিল ও আসামিদের করা আপিল শুনানি করে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২৪ আগস্ট রায় দেন। রায়ে মামলার প্রধান দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়। এছাড়া চার আসামিকে বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের সাজা সংশোধন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন উচ্চ আদালত।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামি শাহাদাত হোসেন শামীম এবং মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া নূর উদ্দিন আপিল করেছেন কিনা, তা জানা যায়নি।
হাইকোর্টের রায়ে খালাসপ্রাপ্তরা হলেন- সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহিউদ্দিন শাকিল।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় তার মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী থানায় মামলা করলে অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার প্রশাসনিক ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় বোরকা পরা পাঁচ দুর্বৃত্ত। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অগ্নিদগ্ধ নুসরাতের মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর আগে ৭ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসকদের কাছে জবানবন্দিতেও অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে যান নুসরাত।
এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। ওই বছর ২৮ মে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত শেষে মাদ্রাসার অধ্যক্ষসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এরপর ২০ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের ৭ মাসের মাথায় ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশীদ আলোচিত এ মামলার রায় দেন। ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেন বিচারক। বিচারিক আদালতের প্রায় সাত বছর পর গত আগস্টে রায় দেন হাইকোর্ট।