সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন বাদীপক্ষ। এই মামলায় তার প্রথম স্ত্রীকে জামিন দেওয়া হয়েছে।
বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) সেফাতুল্লাহর আদালতে মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পিপি ফারুক হোসেন ফারুকী।
এ সময় আদালতে বাদী উল্লেখ করেন যে, ‘আমরা আপস করে নিয়েছি আসামি জামিন পেলে কোনো আপত্তি নাই।’
এর আগে এ মামলায় দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গত সোমবার গাজী নজরুল ইসলামের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
মামলা প্রত্যাহারের আবেদন
এদিকে দুই দফা রিমান্ড শেষে গাজী নজরুল কারাগারে যাওয়ার দুই দিনের মাথায় বুধবার মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করলেন বাদীপক্ষ। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালতে এ আবেদন করা হয়েছে।
মামলা প্রত্যাহারের আবেদনের বিষয়ে আদালতের আদেশ ও পরবর্তী কার্যক্রমের ওপরই এখন নির্ভর করছে মামলাটির পরবর্তী গতিপথ।
যেভাবে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় ফ্ল্যাটের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। পরে সিআইডির সহায়তায় দরজা ভেঙে পুলিশ ভেতরে প্রবেশ করে, ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।
গ্রেপ্তার গাজী নজরুল ও প্রথম স্ত্রী
মরিয়মের মৃত্যুর পর ওই রাতেই গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরদিন মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।
প্রথম দফায় ৪ দিনের রিমান্ড
মামলার পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গাজী নজরুল ইসলামের চার দিনের এবং মাকছুদা ইসলামের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ওই দিন রাতেই মামলাটির তদন্তভার ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
দ্বিতীয় দফায় আরও ৪ দিনের রিমান্ড
প্রথম দফার চার দিনের রিমান্ড শেষে গত ২৪ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুল ইসলামকে আদালতে হাজির করে ফের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি তেজগাঁও জোনাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ফলে দুই দফায় মোট আট দিন রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় গাজী নজরুলকে।
রিমান্ড শেষে কারাগারে
দ্বিতীয় দফার চার দিনের রিমান্ড শেষে গত ২৮ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুলকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুল ইসলাম তার জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত জামিন নামঞ্জুর করে গাজী নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলায় অভিযোগ
মামলার এজাহারে মরিয়মের বাবা অভিযোগ করেন, গত জুনে তার শ্যালক ওবায়দুর রহমানের ‘প্রত্যক্ষ প্ররোচনায়’ সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর সংসদ ভবনের বিপরীতে ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের সঙ্গে থাকতেন মরিয়ম।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, বিয়ের পর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গাজী নজরুল ও মাকছুদা মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। এসব বিষয় মরিয়ম পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।