Image description

জামালপুরের মাদারগঞ্জে বিভিন্ন সমবায় সমিতিতে আটকে থাকা আমানতের টাকা উদ্ধারের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলা যুবদল নেতার নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, এতে ১৫ থেকে ২০ জন গ্রাহক আহত হয়েছেন।
গতকাল সোমবার সকালে উপজেলা পরিষদ ঘেরাও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে দুপুর ২টার দিকে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা। 

সংঘর্ষে আহত পাঁচজন মাদারগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের মধ্যে নিশিন্তপুর গ্রামের রহিম উদ্দিন, ফরিদা আক্তার ও আম্বিয়া খাতুন ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতালের চিকিৎসক সালেহ মেহেদী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আহত আম্বিয়া খাতুনের দাবি, আল-আকাবা ও শতদল সমবায় সমিতিতে তাঁর প্রায় ৯ লাখ টাকা আমানত রয়েছে। টাকা উদ্ধারের আন্দোলনে অংশ নিতে এসে তিনি হামলার শিকার হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারগঞ্জে ২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ সমবায় সমিতিতে ৩২ হাজার ৪২৪ জন গ্রাহকের প্রায় ৭২০ কোটি টাকা আটকে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব আমানত ফেরতের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন ভুক্তভোগীরা।


 

গতকাল সকালে ‘আন্দোলনরত সকল বঞ্চিত গ্রাহক’ এর ব্যানারে কয়েকশ গ্রাহক মাদারগঞ্জ পৌরসভার গাবেরগ্রাম চৌরাস্তা থেকে মিছিল বের করেন। অর্থ উদ্ধার আন্দোলনের একাংশের নেতা শিবলুল বারী রাজুর নেতৃত্বে মিছিলটি উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে অবস্থান নেয়। পরে তারা উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। এতে দুপুর ২টা পর্যন্ত উপজেলা পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
আন্দোলনকারীদের একাংশের নেতা শিবলুল বারী রাজু, শাহা আলী ও গোলাম রব্বানী অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা শান্তিপূর্ণভাবে আমানতের টাকা উদ্ধারের আন্দোলন করছেন। গতকাল উপজেলা পরিষদের সামনে গ্রাহকেরা সমবেত হলে উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান সরকারের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন তাদের ওপর হামলা করেন। এতে নারী-পুরুষসহ ১৫ থেকে ২০ জন গ্রাহক আহত হয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অর্থ উদ্ধার আন্দোলন কমিটির সদস্য ও উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান সরকার। তিনি বলেন, শিবলুল বারী রাজুর নেতৃত্বে একটি অংশ গ্রাহকদের নিয়ে উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করতে গেলে অন্য অংশ তাতে বাধা দেয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের পাঁচজন আহত হয়েছেন।
মাদারগঞ্জ উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, উপজেলায় ২৩টি সমবায় সমিতির মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কয়েকশ কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করেছে। তিন বছর ধরে এসব সমিতির পরিচালকরা আত্মগোপনে রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা চলছে।
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, সংসদ সদস্য ও অর্থ উদ্ধার কমিটির সঙ্গে কথা হয়েছিল। তারা আন্দোলন করবেন না বলে জানিয়েছিলেন। পরে কী কারণে আবার আন্দোলন হয়েছে, তা তাঁর জানা নেই। দুপুর ২টার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে অবরোধ তুলে দেন।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ওসি স্নেহাশীষ রায় বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।