Image description

জুলাই বিপ্লবে নারায়ণগঞ্জে ছাত্রজনতার আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কর্মী বদিউজ্জামান। একপর্যায়ে তাকে মিছিল থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে শামীম ওসমানের উপস্থিতিতে ও নির্দেশে তার ওপর হামলা করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে নিতে গেলে পথে ছয় জায়গায় বাধা দেয় শামীম ওসমানের বাহিনী। হাসপাতালের গেটে ভ্যান থেকে লাথি দিয়ে ফেলে দেয় তারা। পরে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বদিউজ্জামানকে মৃত ঘোষণা করেন।

সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ প্রত্যক্ষদর্শী মাহমুদ হোসেন জবানবন্দিতে এসব তথ্য ওঠে আসে। তিনি বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি এবং বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় সভাপতি।

বিজ্ঞাপন

 

জুলাই বিপ্লবে নারায়ণগঞ্জে ১০ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে সপ্তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি।

জবানবন্দিতে মাহমুদ হোসেন বলেন, আমার বর্তমান বয়স আনুমানিক ৬০ বছর। আবু সাঈদকে শহীদ করা হলে আমাদের বিবেক জাগ্রত হয়। আমরা আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, জালকুড়ি লিংক রোড এবং নারায়ণগঞ্জ সদরে আন্দোলন গড়ে তুলতে থাকি। এই আন্দোলনে আমরা বাধার সম্মুখীন হই এবং আমাদের অনেকেই আহত ও নিহত হয়। আমাদের দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান টিপু গুলিবিদ্ধ হয়। আমি নিজে আহত হই। ১৯ জুলাই শামীম ওসমানের নেতৃত্বে চাষাড়া, জালকুড়ি এলাকায় অনেক গোলাগুলি হয় এবং অনেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। তাদের মধ্যে ছিলেন—আদিল ও ইয়াছিন। ওইদিন শিশু রিয়াগোপ গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ওইদিন শামীম ওসমানের নেতৃত্বে গুলির ঘটনা আমি মোবাইলে ভিডিও ধারণ করি। হামলাকারীদের মধ্যে আরও ছিলেন—তার ছেলে অয়ন ওসমান, শাহ্ নিজাম, আজমেরী ওসমান, তানভীর মোহাম্মদ টিটু, ভিকি, সাংবাদিক রাজু আহম্মেদ, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও সোহানুর রহমান শুভ, শ্রমিকলীগ নেতা কাওছার আহম্মেদ পলাশ ও সবুজ শিকদার এবং সবুজ।

৫ আগস্ট আমরা সমাবেশের আয়োজন করি। মিছিল নিয়ে আমরা কুমুদিনির দিকে যাচ্ছিলাম। তখন শামীম ওসমানের লোকজন আমাদের একজন কর্মী বদিউজ্জামানকে ধরে নিয়ে যায়। তাকে মিনার মোড়ে লোহার রড, পাইপ ও গজারি গাছের ডাল ইত্যাদি দিয়ে এলোপাথাড়ি পিটাতে থাকে। তখন আমরা বদিউজ্জামানকে উদ্ধার করতে গেলে দেখি শামীম ওসমান বলছে, মার মার। একপর্যায়ে আমাকেও মারধর করতে থাকে। একসময় আমাদের লোকজন চলে এলে তারা পালিয়ে যায়।

জবানবন্দিতে মাহমুদ আরও বলেন, পরে বদিউজ্জামানকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের দিকে রওনা করি। পথে ছয় জায়গায় বাধা দেওয়া হয় তারা। হাসপাতালে নিতে দিবে না। একপর্যায়ে বিকাল আনুমানিক ৪টায় আমরা হাসপাতালে পৌঁছাই। সেখানে হাসপাতালের প্রবেশমুখে চুন্নু নামের এক ব্যক্তি রক্তাক্ত বদিউজ্জামানকে লাথি মেরে ভ্যান থেকে তাকে ফেলে দেয়। তখন আমরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যাই। পরে হাসিনা পালিয়ে গেলে তাকে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আমি শামীম ওসমানসহ খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।