Image description

১৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকার গ্যাস বিল বকেয়া। বকেয়া বিল পরিশোধের জন্য একাধিকবার চিঠিও দেওয়া হয়। তারপরও বকেয়া বিল পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে যায় পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (পিজিসিএল) কর্তৃপক্ষ। সংযোগ বিচ্ছিন্নও করে দেওয়া হয়। তবে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের তোপের মুখে প্রায় দুই ঘণ্টা পর আবার সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল বিসিক এলাকার এম এ মতিন কটন মিলে এই ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

 

 

 

সেখানে পৌঁছে পিজিসিএলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলে মিলের শতাধিক শ্রমিক ও মালিক পক্ষের লোকজনের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারা কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করেন। পরে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ওসি উভয় পক্ষকে নিয়ে মিল কার্যালয়ে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে দুপুর পৌনে ২টার দিকে পুনরায় গ্যাস সংযোগ দেয় পিজিসিএল।

পিজিসিএল কার্যালয়ের বিপণন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শিয়ালকোল বিসিক এলাকার এম এ মতিন কটন মিল গত পাঁচ মাস ধরে বিল পরিশোধ করেনি। এতে তাদের ১৩ কোটি ৬৫ লাখেরও বেশি টাকা বকেয়া রয়েছে। এই বিল পরিশোধের জন্য মিল কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয়। তবুও বিল পরিশোধ না করায় উপ-মহাব্যবস্থাপক (ভিজিলেন্স বিভাগ) আমিনুর রহমান খানের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি অভিযানিক দল গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। এতে মিলের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ায় শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়। পরে মিল মালিক বকেয়া বিল পরিশোধে তিন কোটি টাকার একটি চেক ও দুয়েক দিনের মধ্যে আরও তিন কোটি টাকা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিলে সংযোগ পুনরায় সচল করা হয়।

বিজ্ঞাপন

 

 

 

মিলের ব্যবস্থাপক (স্টোর) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গ্যাস কোম্পানির লোকজন হঠাৎ মেইনটেনেন্সের কথা বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। এতে মিল বন্ধ হওয়ায় শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছিল। পরে বকেয়া বিল পরিশোধ বাবদ তাৎক্ষণিক তিন কোটি টাকার একটি চেক ও অবশিষ্ট টাকা অল্প সময়ের মধ্যে পরিশোধের আশ্বাস দিলে বিষয়টি সমাধান হয়।’

পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানির উপ-মহাব্যবস্থাপক (ভিজিলেন্স বিভাগ) আমিনুর রহমান খান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

 

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘সংযোগ বিচ্ছিন্নের অনুমোদন প্রাপ্ত হয়ে বিক্রয় বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক রাশেদ খান, ব্যবস্থাপক কবিরুল ইসলাম, উপ-ব্যবস্থাপক মাসুদ মিয়া, আজিজুল বারী ও সহকারী ব্যবস্থাপক আব্দুল মোমেনকে নিয়ে ওই মিলে গিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করি। কিন্তু এতে শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পরে থানা পুলিশের সহযোগিতায় মিলের ব্যবস্থাপক বকেয়া বিলের বিপরীতে তিন কোটি টাকার একটি নগদ চেক ও দ্রুত অবশিষ্ট বকেয়া পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিলে আমরা সংযোগ পুনরায় চালু করে চলে আসি।’

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি রাকিবুল হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রায় ১৪ কোটি টাকা বকেয়া থাকায় ওই মিলের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিল পিজিসিএল। এতে শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয়ের সঙ্গে কথা বলে সংযোগ আবার চালু হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।’