Image description

‘সময় ফুরিয়ে আসছে’-২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা ২৬ মিনিটে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) এই জরুরি বার্তা পাঠায় ঢাকায়। বাংলাদেশ যে তথ্য পাঠিয়েছে, তা দিয়ে ২৫ মিলিয়ন ডলার আরও সময় আটকে রাখা কঠিন হবে বলে সতর্ক করে দেয় সংস্থাটি।

অর্থটি ছিল ইস্টার্ন ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান ও জাহাজভাঙা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরীর নামে। ইউবিএস এজি ব্যাংকের লন্ডন শাখার হিসাবে থাকা এই সন্দেহজনক অর্থটি সাময়িকভাবে আটকে রেখেছিল এনসিএ, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা তিনশ ছয় কোটি টাকার বেশি।

এই অর্থ আরও সময় আটকে রাখার জন্য কী দরকার, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) তা আগেই জানিয়েছিল সংস্থাটি। শওকতের বিরুদ্ধে কে তদন্ত করছে, কী অপরাধের অভিযোগ, তদন্ত কতদূর এবং ২৫ মিলিয়ন ডলারের সঙ্গে সেই অপরাধের যোগসূত্র কোথায়–এসব জানতে চেয়েছিল এনসিএ। দুই মাসের মধ্যে কার্যকর পারস্পরিক আইনি সহায়তার অনুরোধ বা এমএলএ পাঠানো যাবে কি না, সেটিও জানতে চাওয়া হয়।

কিন্তু ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১:১৩ মিনিটে যে জবাব যায়, সেখানেই বেরিয়ে আসে বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া কয়েকশ বিলিয়ন ডলার উদ্ধারে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর সদিচ্ছা কিংবা প্রস্তুতির নির্মম নগ্ন চিত্র। সরকারি শ্বেতপত্রের হিসাবে, বিগত ১৫ বছরেই বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যা দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সাত গুণ। এই অর্থ উদ্ধারের দায়িত্ব রয়েছে বিএফআইইউর নেতৃত্বাধীন স্টোলেন এসেট রিকভারি টাস্ক ফোর্সের ওপর।

যুক্তরাজ্যকে দেওয়া ওই জবাবে বিএফআইইউ জানায়, দেশে শওকতের ব্যাংক হিসাব ২০২৫ সালের ১ জুলাই অবরুদ্ধ করা হলেও ২৯ আগস্টের পর আর এর মেয়াদ বাড়ানো হয়নি। এনবিআর, সিআইডি ও দুদক তাকে নিয়ে পৃথকভাবে কাজ করলেও কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তার কোনো সম্পদ জব্দ করেনি।

দুই দিন পর, ২৭ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্য জানায়, দায়িত্বপ্রাপ্ত ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্টি-করাপশন কো-অর্ডিনেশন সেন্টার’ এ ঘটনায় আর এগোবে না। তবে পরবর্তীতে অভিযোগ দাঁড় করাতে পারলে আবার যোগাযোগ করতে বলা হয়।

ব্যাংকিং ও গোয়েন্দা নথি বলছে, ওই মেইলের পরপরই লন্ডন অর্থটি ছেড়ে দেয় এবং তা করস্বর্গ সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্থানান্তরিত হয়। হাতছাড়া হয় বিএফআইইউ প্রতিষ্ঠার পর বিদেশ থেকে অর্থ ফেরানোর প্রথম বাস্তব সুযোগ।

টাইমসের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২৫ মিলিয়ন ডলার আরও সময় আটকে রাখার জন্য যুক্তরাজ্য যেসব তথ্য ও আইনি প্রস্তুতি চাইছিল, তা সরবরাহের সুযোগ বাংলাদেশের হাতে থাকলেও এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। দেশে শওকতের হিসাবের অবরোধ আর বাড়ানো হয়নি, সিআইডি বা দুদকের মাধ্যমে সম্পদ জব্দের উদ্যোগও এগোয়নি।

অপরাধের সঙ্গে অর্থটির যোগসূত্র শক্ত করতে যে নির্দিষ্ট আইনি ভিত্তিগুলো পরে যুক্তরাজ্যের সামনে আনা হয়, সেগুলো আসে অর্থ হাতছাড়া হওয়ার পর। একই অনুসন্ধানে বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবের অবরোধ তুলতে বিএফআইইউ প্রধানের নাম ব্যবহার করে কোটি টাকার ‘প্যাকেজ’ প্রস্তাব এবং সংস্থাটির ভেতরে ফাইল চাপা দিয়ে তদন্ত থামিয়ে দেওয়া একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের তথ্যও উঠে এসেছে।

 

এনসিএ, যুক্তরাজ্যের এফআইইউ ও বিএফআইইউর গোপন গোয়েন্দা প্রতিবেদন, অভ্যন্তরীণ নথি, ই-মেইল এবং এনবিআরের কাগজপত্র বিশ্লেষণে এসব তথ্য মিলেছে।

২৫ মিলিয়নের খবর এল যখন

২৫ মিলিয়ন ডলারের আনুষ্ঠানিক গোয়েন্দা বার্তা ঢাকায় আসে ১০ ফেব্রুয়ারি। তার আগের দিন এনসিএ প্রতিবেদনটি তৈরি করেছিল। এতে ইউবিএস এজির লন্ডন শাখায় শওকতের নামে থাকা প্রায় ২৫ মিলিয়ন ডলারের হিসাবের তথ্য দিয়ে জানতে চাওয়া হয়, তিনি বাংলাদেশে কোনো চলমান অনুসন্ধানের বিষয় কি না এবং ঢাকা আরও সহায়তা চায় কি না।

কিন্তু শওকত তখন বিএফআইইউর কাছে নতুন কেউ ছিলেন না। এর এক বছরেরও আগে, ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি মেঘনা ব্যাংকের একটি সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিবেদনের সূত্র ধরে সংস্থাটি তার ও পরিবারের সদস্যদের লেনদেন খতিয়ে দেখে। ওই বছরের ১ জুলাই তার ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হলেও ২৯ আগস্টের পর সেই অবরোধ আর বাড়ানো হয়নি।

এরপর ১৮ ফেব্রুয়ারি বিএফআইইউ যুক্তরাজ্যকে জানায়, শওকত বাংলাদেশের ‘পারসন অব ইন্টারেস্ট’। একই সঙ্গে লন্ডনের ২৫ মিলিয়ন ডলার আটকে রাখার অনুরোধ করা হয়। জবাবে এনসিএ জানতে চায়, বাংলাদেশে তার ব্যাংক হিসাবের অবরোধ কেন আর বাড়ানো হয়নি এবং দেশে কোনো সম্পদ কেন জব্দ করা হয়নি।

বিদ্যমান আইনে আরও ৫ মাস ওই ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ রাখতে পারত বিএফআইইউ। দীর্ঘমেয়াদি অবরোধের প্রয়োজন হলে সিআইডি বা দুদকের মাধ্যমে আদালতে যাওয়ার পথও খোলা ছিল।

অর্থ ছেড়ে দিয়ে সক্রিয় হয় বিএফআইইউ

২৭ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্য থেকে ‘আর আগানো হবে না’ বার্তা আসার পরই সক্রিয় হয় বিএফআইইউ। ১০ মার্চ সংস্থাটি যুক্তরাজ্যকে জানায়, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসসহ বিভিন্ন অফশোর অঞ্চলে নিবন্ধিত কাগুজে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পুরোনো জাহাজ আমদানির আড়ালে শওকতের বাণিজ্যভিত্তিক অর্থ পাচারের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। এই ভিত্তিতে আবারও অর্থ আটকে রাখার সময় বাড়াতে বলা হয়।

 

১৫ মার্চ এনবিআর শওকতের বিরুদ্ধে ৩০৬ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার করদাবি ও জরিমানা আরোপ করে, তৎকালীন বিনিময় হারে যা ২৫ মিলিয়ন ডলারের সমান। ১৭ মার্চ এই জরিমানাকে যুক্তরাজ্যের কাছে বাংলাদেশের দাবি প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরে বিএফআইইউ। অর্থটি আটকে রেখে দেশে ফেরাতে সহযোগিতা চাওয়া হয়।

একই দিন সংস্থাটি আরেকটি আইনি ভিত্তি সামনে আনে। বিদেশে অর্থ পাঠানো বা বিনিয়োগে অনুমোদন না থাকায় শওকতের বিরুদ্ধে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের তদন্ত শুরুর কথা জানানো হয়।

অর্থাৎ, অপরাধের যে ভিত্তি ও অর্থের সঙ্গে শওকতের যোগসূত্র যুক্তরাজ্য ফেব্রুয়ারিতে জানতে চেয়েছিল, ঢাকা তা সামনে আনে অর্থ হাতছাড়া হওয়ার পর।

কী করা যেত

এনসিএ, যুক্তরাজ্যের এফআইইউ ও বিএফআইইউর গোপন গোয়েন্দা প্রতিবেদন, ই-মেইল ও অভ্যন্তরীণ নথিগুলো বিএফআইইউর সাবেক তিন দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে দিয়ে পৃথকভাবে পর্যালোচনা করিয়েছে টাইমস, যারা নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। তাদের প্রত্যেকের মূল্যায়ন প্রায় একই।

তারা বলেন, যুক্তরাজ্য গোয়েন্দা প্রতিবেদনটি অন্য সংস্থা বা আদালতে উপস্থাপনে নিষেধ করলেও বাংলাদেশের নিজস্ব তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করেনি। শওকতের হিসাব আবার অবরুদ্ধ করা এবং সিআইডি বা দুদকের অনুসন্ধান এগিয়ে আদালতের মাধ্যমে সম্পদ ক্রোকের উদ্যোগ নিলে যুক্তরাজ্যের কাছে বাংলাদেশের অবস্থান শক্ত হতো এবং আনুষ্ঠানিক এমএলএ পাঠানোর ভিত্তিও তৈরি হতো।

নথিগুলো বিশ্লেষণ করে ব্যারিস্টার রিজওয়ান সিদ্দিক বলেন, ‘বাংলাদেশের সংস্থাগুলো কার্যকর ভূমিকা নিলে এই অর্থের অবরোধ বাড়ানোর সুযোগ ছিল।’

 

বিএফআইইউ কর্মকর্তাদের লাভ কত

টাইমসের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যপ্রমাণ বলছে, শওকতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলেন বিএফআইইউ প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন ও অপারেশন অ্যানালাইসিস উইংয়ের অতিরিক্ত পরিচালক কামরুল হাসান আজাদ। তাদের নির্দেশনার আলোকে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ই-মেইল চালাচালি করছিলেন পলিসি উইংয়ের উপপরিচালক ফুয়ারা খাতুন। ২৫ ফেব্রুয়ারির সংকটময় সেই চার ঘন্টাতেও মামুন ও আজাদ মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

এর আগে শওকতের বিরুদ্ধে বিএফআইইউর অনুসন্ধানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আজাদ। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অনুসন্ধান শেষ হলেও নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবেদনটি সিআইডি বা দুদকে পাঠানোর প্রমাণ পায়নি টাইমস। ওই প্রতিবেদনে সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসে বিনিয়োগের মাধ্যমে শওকতের পাসপোর্ট অর্জন এবং সিঙ্গাপুরের বিলাসবহুল সম্পদের তথ্য নেই, যদিও অনুসন্ধানকালে এ-সংক্রান্ত নথি আজাদের হাতে পৌঁছানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এসব কারণে শওকতের ক্ষেত্রে মামুন ও আজাদের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। শওকত আলীর কাছে থেকে তাঁরা কোনো সুবিধা নিয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে অনুসন্ধানে সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেনের একটি প্যাটার্ন আবিস্কৃত হয়েছে।

তথ্য-প্রমাণ বলছে, বিএফআইইউ কখন কার ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করছে সেই তথ্য সংস্থাটির প্রধানের ভাগনে শোয়ায়েব মো. মুনতাসির মোর্শেদের কাছে যাচ্ছে। তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অবরোধ খুলে দেওয়ার বিনিময়ে আর্থিক ‘প্যাকেজ’ প্রস্তাব করছেন।

প্রমাণ সংগ্রহে এই প্রতিবেদকের অনুরোধে দুই ব্যবসায়ী শোয়ায়েবের সঙ্গে যোগাযোগ করে কথোপকথন রেকর্ড করেন। রেকর্ডগুলো যাচাই করেছে টাইমস। এতে মামুনের রেফারেন্স দিয়ে ব্যাংক হিসাব খুলে দেওয়ার জন্য দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা অগ্রিম এবং অর্থ ছাড়ের পর হিসাবে থাকা অর্থের এক-চতুর্থাংশ চাইতে শোনা যায় মুনতাসিরকে। অগ্রিম দিলে বিএফআইইউ প্রধানের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করিয়ে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। তবে অগ্রিম ছাড়া বৈঠক করাতে রাজি না হওয়ায় অনুসন্ধানের এই অংশটি আর এগোয়নি।

এ বিষয়ে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের মাধ্যমে বিএফআইইউ প্রধান মামুনের মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি অভিযোগের স্বপক্ষে প্রমাণ চান। তবে সোর্সের নিরাপত্তার স্বার্থে অডিও রেকর্ড পাঠানো সম্ভব নয় জানালে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

 

বিএফআইইউ প্রধানকে হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাঠানোর মিনিটখানেকের মধ্যেই তার ভাগিনা শোয়ায়েব এই প্রতিবেদককে ফোন করেন। প্রথমে তিনি অভিযোগে অস্বীকার করলেও রেকর্ডের কথা জানালে ‘বিষয়টি সফটলি দেখার’ অনুরোধ জানান।

এদিকে বিএফআইইউর সাবেক একাধিক কর্মকর্তা টাইমসকে বলেন, কোন তথ্য কোন সংস্থাকে দেওয়া হবে, কোন মামলা কতদূর এগোবে এবং বিদেশি সংস্থাকে কী জবাব দেওয়া হবে–এসব নিয়ন্ত্রণ করছে অভ্যন্তরীণ একটি ‘সিন্ডিকেট’। গোয়েন্দা সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ এক নিরীক্ষাতেও বিষয়টি উঠে এসেছে যা এই সংবাদপত্রটির হাতে রয়েছে। এতে  দেখা গেছে, এই সিন্ডিকেটে আজাদ ছাড়াও মনিটরিং উইং-১ এর একজন অতিরিক্ত পরিচালক এবং ১২ বছর ধরে পলিসি উইংয়ে থাকা একজন যুগ্ম পরিচালক রয়েছেন। সিন্ডিকেটের বাকি সদস্যদের বেশিরভাগ এখানে দীর্ঘ সময় ধরে আছেন। কিন্তু বিধি অনুযায়ী পাঁচ বছরের বেশি এই সংস্থায় থাকার সুযোগ নেই।

বিএফআইইউর ৭৫ কর্মকর্তার মধ্যে অন্তত আটজন পাঁচ থেকে ১২ বছর ধরে সংস্থাটিতে আছেন।

অনুসন্ধান বলছে, ওই সিন্ডিকেটের হস্তক্ষেপে শওকত আলী ছাড়াও কয়েক ডজন কেস চূড়ান্ত পরিণতি পায়নি। এগুলোর তদন্ত শেষ হলেও অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার অংশ হিসেবে প্রতিবেদনগুলো সিআইডি ও দুদকে যায়নি।

অবশ্য বিএফআইইউর শীর্ষ কর্মকর্তাদের আর্থিক অনিয়মে জড়ানোর ঘটনা নতুন নয়। বর্তমান প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন, যার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন, তিনি আর্থিক ও নৈতিক স্খলনের দায়ে চাকরিচ্যুত হন। তার আগের প্রধানও আর্থিক অপরাধের অভিযোগে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন।

তবে বিএফআইইউতে সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব অস্বীকার করে সংস্থাটির প্রধান মামুন বলেন, ‘ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো এরাই করে। তাই এদেরকে সরানোর সুযোগ নেই।’

গোপন তথ্য এনবিআরে যাওয়ার নেপথ্যে

এনসিএর গোয়েন্দা প্রতিবেদনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা উপেক্ষা করে নথিগুলো এনবিআরে যায়। এই নথি এনবিআরের কাছে কীভাবে গেল, তা নিয়ে বৈপরীত্যে ভরা ব্যখ্যা দিয়েছিলেন বিএফআইইউ প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মামুন।

১৩ জুলাই দুপুর ১টা ৪২ মিনিট থেকে ২টা ৫৪ মিনিট পর্যন্ত তার কার্যালয়ে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে হওয়া দীর্ঘ আলোচনায় তিনি বলেন, এই ফাইল তিনি নিজে এনবিআরে গিয়ে দিয়ে এসেছেন। পরে টাইমস এনবিআর থেকে এনসিএ, ইউকেএফআইইউ ও বিএফআইইউর মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া ই-মেইলের কপি উদ্ধার করে।

 

কিন্তু ৩ আগস্ট দুপুর আড়াইটায় তার কার্যালয়ে বিষয়টি নিয়ে তৃতীয় দফা আলোচনায় এনবিআরে ওই নথি পাঠানোর বিষয়টি অস্বীকার করেন মামুন।

এনবিআরকে নথি দেওয়া হলেও সিআইডি ও দুদকের সঙ্গে কেন তথ্য শেয়ার করা হলো না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এনবিআর শওকতের বিরুদ্ধে করদাবি তোলে ও জরিমানা করে। বিপরীতে সিআইডি বা দুদকের অনুসন্ধানে অর্থপাচার বা দুর্নীতির সংশ্লিষ্টতা প্রতিষ্ঠিত হলে ফৌজদারি আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতের মাধ্যমে সম্পদ জব্দ করার পথ তৈরি হতে পারত।

দেশে অর্থ ফেরানোর এমন সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করার কারণ জানতে চাইলে বিএফআইইউ প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন টাইমসকে বলেন, ‘এই অর্থ আমরা হারাইনি। সমপরিমাণ অর্থ এনবিআর জরিমানা করায় নিরাপদ হয়েছে। অর্থ যদি ফিরে নাও আসে, জরিমানার অর্থ আদায়ের মাধ্যমে দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ হয়েছে।’

তিনি দাবি করেন, ‘এই গোয়েন্দা নথি কোথাও শেয়ার করতে যুক্তরাজ্য সুযোগ না দেওয়ায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যায়নি। আমরা বারবার অনুমতি চাইলেও যুক্তরাজ্য অনুমতি দেয়নি।’