কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়েছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। শনিবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থল ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি কাঁদতে কাঁদতে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
এমপি মনিরুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন, ‘আমি লজ্জিত, আমি ক্ষমাপ্রার্থী। এই এলাকার এমপি হিসেবে আমি লজ্জিত। আমরা এমন মাসুম বাচ্চাদেরকেও রক্ষা করতে পারলাম না। মৃত্যু মানুষের হয়, তবে এমন করুণ মৃত্যু দেখিনি। নিষ্পাপ ছোট বাচ্চা...। আমি অবিলম্বে অপরাধীকে শনাক্ত করে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে তার বিচাকার্য সম্পাদনের জন্য মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমি এখন গিয়ে কথা বলব।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে এমপি বললেন, ‘একটি আইফোনের জন্য একটি মাসুম বাচ্চাকে এভাবে মারতে পারে। আমি কল্পনা করি নাই। কী দেশ বানালাম। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি লজ্জিত। আমি ক্ষমা চাই জাতির কাছে। আমি এই ছেলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।’
শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন একটি জঙ্গল থেকে ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতিম অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের কোটবাড়ি এলাকায় তাদের বাসা।
দুপুরের পর অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাস্থল ঘুরে কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী তাদের বাসায় সমবেদনা জানাতে গেলে অপ্রতিমের মা আহাজারি করে বলছিলেন, ‘আমার ছেলে কী অন্যায় করছে...। আমার ছেলের কী অন্যায় ছিল, আমি শুধু জানতে চাই। আমি কোন দেশে থাকি, এইটা কোন দেশ। কোন দেশ এটা, একটা ছেলে বের হলে তাকে মাইরা ফেলবে?’
গতকাল শুক্রবার বিকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর খোঁজ মিলছিল না অপ্রতিমের। মা নাহিদা ফেসবুকে লিখেছিলেন, তাকে না জানিয়ে তার আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে গিয়েছিল অপ্রতিম।
খোঁজাখুঁজির পর অপ্রতিমকে না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা। পুলিশকে জানানোর পর নিখোঁজ শিশুদের সন্ধানে মুন অ্যালার্টেও দেওয়া হয় খবরটি।
২০ ঘণ্টা পর আজ দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটের পাশে বিনোদন পার্ক ‘ম্যাজিক প্যারাডাইস’সংলগ্ন দক্ষিণ সানন্দা এলাকার জঙ্গলে অপ্রতিমের মরদেহ পাওয়া যায়। তখন তার সঙ্গে আইফোনটি পাওয়া যায়নি।
কয়েকজন শ্রমিক জঙ্গলে বাঁশ কাটতে গিয়ে অপ্রতিমের রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখে অন্যদের খবর দিয়েছিলেন।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, মোবাইল ফোনের জন্যই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।’ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তুহিন নামের একজনকে আটকের কথা জানিয়ে ওসি বলেন, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, এই হত্যাকাণ্ড শুধু কি একটি আইফোনের জন্য, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল, তা খুঁজে বের করতে মাঠে নেমেছে পুলিশ। প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা না পর্যন্ত তারা কাজ চালিয়ে যাবে।
ময়নাতদন্তের জন্য অপ্রতিমের মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।