Image description

বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র বিছনাকান্দি। সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নে অবস্থিত এই পর্যটনকেন্দ্র ঝর্না, পাথর আর পাহাড়ের অপূর্ব মেলবন্ধনের জন্য পরিচিত দেশজুড়ে।

গত কয়েক বছরে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি হওয়ায় ছুটির দিনগুলোতে বিছনাকান্দিতে পর্যটকের ঢল নামছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন সবুজ পাহাড়ঘেরা মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে। তবে এই সৌন্দর্যের আড়ালেই এখন দেখা দিয়েছে বেশ কিছু উদ্বেগজনক চিত্র।

ছবি: এম আরেফিন/টাইমস

 

এর মধ্যে অন্যতম হলো মাদক সেবন। পানি ও পাথরের ফাঁকে ফাঁকে পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে বিয়ার, মদ ও ফেনসিডিলের খালি বোতল। পর্যটকেরা পানিতে নামতে গিয়ে কিংবা পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটার সময় এসব ভাঙা কাঁচে পা কেটে আহত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন।

 

ছবি: এম আরেফিন/টাইমস

 

মাদক সেবনের এমন দৃশ্য চোখে পড়ায় পর্যটনকেন্দ্রজুড়ে নিয়মিত নজরদারি ও তদারকি কতটা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

 

কেবল মাদকই নয়, বিছনাকান্দির জন্য আরেকটি বড় হুমকি হয়ে উঠেছে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন। অভিযোগ রয়েছে, দিন-রাত নৌকায় করে বালু ও পাথর তোোোলা হচ্ছে। পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করা বেশকিছু পাহাড়ের বাংলাদেশের অংশ থেকেও পাথর সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ছবি: এম আরেফিন/টাইমস

 

এর ফলে পিয়াইন নদীর কিছু অংশ উধাও হয়ে গেছে বড় বড় পাথর। কোথাও কোথাও তৈরি হয়েছে গভীর গর্ত। নদী ও তার পাথুরে তলদেশে এখন স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে ক্ষয়ের চিহ্ন।

 

নদীর ভেতরে ও আশপাশে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন দোকানপাট। অন্যদিকে, নিয়ন্ত্রণহীন বালু ও পাথর উত্তোলনের কারণে একটি ভাসমান রেস্তোরাঁ একদিকে কাত হয়ে গেছে। প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি এটি ওই এলাকার ভূমি ও নদীতলের অস্থিতিশীলতারও আশঙ্কাজনক ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ছবি: এম আরেফিন/টাইমস

 

 

স্থানীয়রা বলছেন, একসময় পর্যটকদের অন্যতম প্রিয় গন্তব্য ছিল বিছনাকান্দি। পানি আর পাথরের অনন্য সমন্বয়ই ছিল এর প্রধান আকর্ষণ। কিন্তু বর্তমানে মাদক, নিরাপত্তাঝুঁকি ও অব্যবস্থাপনা—এই তিন ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে পর্যটনকেন্দ্রটি।

ছবি: এম আরেফিন/টাইমস

 

এখন প্রশ্ন উঠছে, যথাযথ যত্ন ও নজরদারির অভাবে বিছনাকান্দির চিরচেনা সৌন্দর্য ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে কি না। দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক সম্পদটি অপূরণীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।