রোহিঙ্গাদের ফেরত নিলে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংকে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানাবেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। বুধবার এ কথা জানিয়েছেন তিনি।
আনোয়ার বলেছেন, হাজারো রোহিঙ্গাকে দেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার রাজি হলে মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে প্রস্তুত মালয়েশিয়া। আসিয়ানের অবস্থান অনুযায়ী মিয়ানমারের নতুন সরকারকে এখনও স্বীকৃতি না দিলেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পথ খুঁজতে এই উদ্যোগ নিতে চান তিনি।
২০২১ সালের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করা অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল মিন অং হ্লাইং এপ্রিল মাসে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা করে আসছেন। সেনাবাহিনী-সমর্থিত একটি দলের প্রাধান্য থাকা এবং কার্যকর বিরোধী দল না থাকায় অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনের পর তিনি প্রেসিডেন্ট হন।
আনোয়ার বলেছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের মতো মালয়েশিয়াও মিয়ানমারের নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত নয়। তবে শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনার জন্য মিয়ানমারের এমন একজন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন, যার সঙ্গে আলোচনা করা যাবে।
একটি পডকাস্টে আনোয়ার বললেন, ‘আমরা আসিয়ানের অনুসরণ করে মিয়ানমারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক চাই না। তাহলে আমরা কার সঙ্গে আলোচনা করব?’
তার ভাষ্য, ‘আমি তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি এই বার্তা দিতে যে, আমরা বন্ধু হতে পারি, বাণিজ্য করতে পারি, আমরা মিয়ানমারকে গ্রহণ করতে পারি। তবে মিয়ানমারকে অবশ্যই তাদের (শরণার্থীদের) ফিরিয়ে নিতে হবে।’
আসিয়ান মিয়ানমারের নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেয়নি। ২০২১ সাল থেকে দেশটির নেতাদের আসিয়ানের শীর্ষ সম্মেলনেও নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে দেশটিতে গৃহযুদ্ধে আনুমানিক ১ লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন। সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বেসামরিক জনগণের ওপর নৃশংসতা চালানোর ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। তবে সামরিক বাহিনী এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে।
মিয়ানমারের সাবেক জান্তার অন্যতম সোচ্চার সমালোচক মালয়েশিয়া। দেশটির আগ্রাসন বন্ধ করতে বারবার অস্বীকৃতি জানানোর ঘটনায় মালয়েশিয়া হতাশাও প্রকাশ করেছে।
মিন অং হ্লাইংকে আতিথ্য দেওয়া আসিয়ানের ১১ সদস্যের মধ্যে মালয়েশিয়া হবে পঞ্চম দেশ। সম্প্রতি তিনি লাওস, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনাম সফর করেছেন। এ ছাড়া তিনি চীন, ভারত ও রাশিয়াও সফর করেছেন।