Image description

পাবনার ঈশ্বরদীতে বালু ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী একই রাজনৈতিক বলয়ের দুই পক্ষের বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহানুজ্জামান সেনার বাড়িতে অতর্কিত হামলা, গুলিবর্ষণ, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। 

 

মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার চররূপপুর ফটু মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

শাহানুজ্জামান সেনা ওই এলাকার মৃত আবুল খায়ের প্রামাণিকের ছেলে। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে, হামলায় অভিযুক্ত ‘আমেরিকান সুমন’ ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। স্থানীয়ভাবে দুজনকেই জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। 

রাজনৈতিকবই

 

 

শাহানুজ্জামান সেনার অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাঘার বিভিন্ন মহাল থেকে নৌকায় বালু এনে নলগাড়ি সড়কের মাথায় মজুত করে ব্যবসা করছেন। ব্যবসার জায়গা ইজারা নেওয়া থাকলেও একটি প্রভাবশালী চক্র তাঁর ব্যবসায় বাধা দিয়ে আসছিল। সম্প্রতি আমেরিকান সুমন ও তাঁর সহযোগী ‘নবী’ ব্যবসা চালিয়ে যেতে তাঁর কাছে বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাঁর বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

 

সেনা বলেন, হামলাকারীরা গুলি ছুড়তে ছুড়তে বাড়িতে ঢুকে তাঁর স্ত্রীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করেন। পরে আলমারিতে থাকা নগদ ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যান। তাঁর বৃদ্ধ মা ও এক আত্মীয়কেও অস্ত্রের মুখে ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা বাড়ির সামনে থাকা একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় তারা ২৫ রাউন্ড বা তারও বেশি ফাঁকা গুলি ছোড়েন।

 

ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ২৪টি গুলির খালি খোসা এবং ভাঙচুর করে পুড়িয়ে দেওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার করে। 

News

 

 

তবে শাহানুজ্জামান সেনার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আমেরিকান সুমন। তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। তাঁর দাবি, ওই এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মজুত করা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। এতে বাধা দিতে গেলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, যা তাঁদের অভ্যন্তরীণ ও গোষ্ঠীগত বিরোধ। এর সঙ্গে তাঁর বা তাঁর অনুসারীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

 

ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. আশাদুর রহমান বলেন, গোলাগুলির ঘটনায় এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার তদন্ত চলছে।