Image description

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা আ জ ম নাছির উদ্দীনের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪১ কোটি টাকা।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে তার সম্পদ পাওয়া গেছে প্রায় ২৭ কোটি টাকার। আরও প্রায় ১৪ কোটি টাকার সম্পদ, যা আ জ ম নাছির ভোগদখলে রেখেছেন, সেটা ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত বলছে দুদক।

এর মধ্যে তিনি মাছ চাষের মিথ্যা তথ্য দিয়ে সেই সম্পদ বৈধ দেখানোর চেষ্টার তথ্য পেয়েছে দুদক।

আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের-১ সহকারী পরিচালক সাঈদ মোহাম্মদ ইমরান হোসেন অবৈধ পন্থায় ১৪ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আ জ ম নাছিরের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

আ জ ম নাছির উদ্দীন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ২০১৫ সালে বিতর্কিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হয়েছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে আছেন।

মামলায় উল্লেখ আছে, আয়কর নথির বিবরণ অনুযায়ী ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আ জ ম নাছিরের স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৩০ লাখ ১৮ হাজার ৯১০ টাকা। অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২৬ কোটি ৩৮ লাখ ১ হাজার ২৮৫ টাকা। দেনা ৬ কোটি ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮ টাকা। দেনা বাদ দিলে তার নিট সম্পদ ২২ কোটি ৪৯ লাখ ২৩ হাজার ১৮৭ টাকা।

একই সময়ে নাছির উদ্দীন পারিবারিক এবং অন্যান্য খাতে ব্যয় করেছেন ১৮ কোটি ১২ লাখ ৫৫ হাজার ৬৪৮ টাকা। সব মিলিয়ে তার অর্জিত সম্পদ ৪০ কোটি ৬১ লাখ ৭৮ হাজার ৮৩৫ টাকা। অথচ দুদকের অনুসন্ধানে তার গ্রহণযোগ্য সম্পদের পরিমাণ মিলেছে ২৬ কোটি ৬২ লাখ ৩৭ হাজার ২৬৫ টাকা।

এ হিসাবে ১৩ কোটি ৯৯ লাখ ৪১ হাজার ৫৭০ টাকার সম্পদ নাছির ভোগদখলে রেখেছেন, যার কোনো গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস নেই। মেয়র থাকার সময় ক্ষমতার অপব্যহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে সংগতিহীন এ সম্পদ তিনি অর্জন করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদক কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইমরান হোসেন জানালেন, আ জ ম নাছির তার মেয়রের মেয়াদকালে ২০১৪-১৫ থেকে ২০১৯-২০ করবর্ষ পর্যন্ত সময়ে মাছ চাষ করে ১২ কোটি ৪৭ লাখ ৭৪ হাজার ৫০০ টাকা আয়ের তথ্য দেন। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে মাছ চাষের কোনো সত্যতা মেলেনি। বরং তিনি মাছ চাষের জন্য যাদের পুকুর লিজ নেওয়ার চুক্তিপত্র উপস্থাপন করেছেন সেগুলোরে সবই মিথ্যা। তাদের কোনো পুকুরও নেই। এমনকি মৃত ব্যক্তির সঙ্গেও চুক্তির তথ্য দিয়েছেন তিনি।

২০২৪ সালের দুদক আইনের ২৭(১) ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় আ জ ম নাছির উদ্দীনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের হয়েছে।